ড. আহমদ আনিসুর রহমান

এখন যে একুশে দেখি, বিশেষ করে গত দশক দুয়েক থেকে—তা আমরা, একুশের প্রজন্ম যে ঐতিহ্যবাহী একুশে পালন করে এসেছি ছোটবেলা থেকেই, তা থেকে বহু যোজন দূর মনে হয়।

সমাজের মনোজগতে একেশ্বরবাদী অনার্য সেমিটিক ধর্মের মূল্যবোধ ভিত্তিক খৃষ্টীয় সভ্যতা উতখাত করার ফলে সৃষ্ট শূণ্যতা পূরণে তারা ‘নবজাগরন’ বা ‘পূণর্জাগরণ’ (‘Renaissance’)-এর নামে তারা খৃষ্টীয় মূল্যবোধ ব্যবস্থা কর্তৃক দু’হাজার বছর পূর্বে উপড়ে ফেলা, মৃত খৃষ্টপূর্ব অনার্য য়ূরোপীয় পৌত্তলিক আর্য গ্রীক-রোমক ‘সভ্য

সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাই প্রকৃত স্বাধীনতার মৌলিকতম নিয়ামক ও ভিত্তি। সংস্কৃতির যা কিছু প্রতিবেশী জাতিগুলো থেকে স্বজাতিকে স্বকীয়তায় ভাস্বর করে, তাই আদরণীয়, পালনীয়, স্মরণীয় ও সংরক্ষণীয়। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, ধর্ম-বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী, মঝব-গ’র মজহব, আলেম-জাহেল, জ্ঞানী-নির্জ্ঞান নির্বিশেষে বাংলার সব জনসাধারণেরই উ

যা ভাবে বাংলা আজ, বিশ্ব ভাবে ‘আগামীকাল’। ১৯০৫ সনে যখন প্রথম পূর্ববঙ্গ আর আসামকে এক করে আজকের বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণমূলক প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে বাংলার নিপীড়িত কৃষকদের মুক্তির প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়

দুনিয়ার অন্যান্য জাতি, বিশেষত প্রতিবেশী জাতিসমূহের সঙ্গে নিজের অভিন্নতার দিকগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির বোধ জাগরূক রাখার সঙ্গে সঙ্গে, তাদের বিশেষ করে প্রতিবেশী জাতি থেকে নিজেদের ভিন্নতা-জ্ঞাপক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে নিজেদের জাতীয় স্বকীয়তার চেতনাকে সার্বক্ষণিক লালন করা জরুরি।

বিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহও সম্ভবতঃ মে’রাজের ঐ শিক্ষায়ই অনুপ্রাণিত। মে’রাজের ঘটণা ও শিক্ষা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই জর্মন জাতীয় কবি, “মোহাম্মদ” নামক তাঁর বিখ্যাত কাব্য, আর জর্মন দার্শণিক তাঁর বিশ্ববিখ্যাত “সুপারম্যান”-এর ধারণা রচণা করেন বলে প্রতীয়মান।

‘ইংরেজী নববর্ষ’ আসলে ‘ইংরেজী’-ও নয়, ‘নববর্ষ’-ও নয়। আর বাংলায় তার ‘উদযাপন’ তেমনই, যেমন বাঙ্গালীর সাধের ডাল আর মাছের মাথার ঝাল মুড়িঘণ্টে ইংরেজের অতি মিষ্ট খ্রিষ্ট মাসের ১০০% জমাট রক্তের ‘ব্লাড পুডিং’ ঢেলে দেওয়া।

“ইংরেজি নববর্ষ” আসলে “ইংরেজি”-ও নয় – “নববর্ষ”-ও নয়। আর বাংলায় তার “উদযাপন” তেমনই, যেমন বাঙালির সাধের ডাল আর মাছের মাথার ঝাল মুড়িঘণ্টে ইংরেজের অতি মিষ্ট খৃষ্টমাসের ১০০% জমাট রক্তের “ব্লাড পুডিং” ঢেলে দেয়া।

আজ কয়েক দশক পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সময়ও একইভাবে তার বহু দূর, বিদেশে বসে সে খবর পাওয়ার সময় কিছু একটা লিখছিলাম। সংবাদটি পেতেই থমকে গেলাম-লেখাটি বন্ধ করে দিলাম, তার জন্য দোয়া করলাম।

অন্য দিকে, পশ্চিম য়ুরোপের “শ্যামায়িত” আর্যগণ তাদের বিশ্বব্যাপী উপনিবেশবাদী সাম্রাজ্যবাদের সুবাদে বাংলাদেশ-সহ প্রাচ্যে এসে পৌঁছালে, তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা আর্যায়িত “সেমেটিক” “খৃষ্টধর্ম”-এ অত্যল্পকিছু স্থানীয়কে দীক্ষিত করে।

শব্দ মূলার্থ বিচারে তাই “মধ্য” গভীরতম মূল অর্থ হলো, কোনো কিছুর দুপাশের বা দুপ্রান্তের মাঝখানের আলোকিত, তথা প্রকাশ্য অংশ যা পরিষ্কার দেখা বা বোঝা যায়। মধ্যের এই অংশ থেকে দুপাশে যত দূরে যা কিছু, তা-ততই অপরিষ্কার, অপ্রকাশ্য, অন্ধকারাচ্ছন্ন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংক্ষিপ্ত ও বেদনাবিধুর হলেও বাংলার জনগণের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কিন্তু এই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ নয়। আর ১৯৭১ সাল কেবল আমাদের দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের শুরু বা শেষ নয়; এটি যুগ-যুগান্তরের মুক্তিযুদ্ধের অংশ।

১৯৭২ সালের মার্চে বাংলাদেশ সব ধরনের বিদেশি সেনামুক্ত হওয়ার সময়ের একটু আগে বা পর থেকে দেশে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যেন হঠাৎ করেই নাভি দেখানো অজন্তা ধাঁচের শাড়ি পরা অপূর্ব সুন্দরী তরুণীদের উপস্থিতি দৃষ্টিগোচর হতে থাকে।

বাংলাদেশ সরকারের ধর্মসচিব এ বছরও ১২ রবিউল আউয়াল ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ উদ্যাপনের ঘোষণা করেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ও সর্ববৃহৎ ধর্ম সংস্থা ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। বাংলাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় ঈদে মিলাদুন্নবী সরকারিভাবেই পালিত হয় সরকারি ছুটির মাধ্যমে।

মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক-সামরিক সংঘাতের এক ভয়ংকর জটাজালে আটকে পড়ে নিরীহ শিশু, নারী, বয়োবৃদ্ধ, যাজক-সাধক, বিজ্ঞানী-গবেষকসহ কোটি কোটি মানবসন্তান যে ভয়াবহ ধ্বংসের মুখোমুখি, তা শুধু একটি স্থান-কালসীমিত সমসাময়িক রাজনৈতিক-সামরিক সংঘাতই নয়।

আমাদের দেশ ছোট হলেও আমরা জাতি বড়। কত বড়, অনেক ক্ষেত্রে, তা দু’শতাব্দীরও অধিক ধরে আমাদের হীনম্মন্যতায় ভোগানোর নানা কলাকৌশলের মুখে আমরা ভুলেই যেন গিয়েছি।

মুকুল চৌধুরীও চলে গেলেন। শক্তিশালী কবি ছিলেন । একে একে সতীর্থরা অনেকেই চলে যাচ্ছেন। আলী ইমাম, মুহম্মদ জাহাঙ্গীর ও মাহফুজউল্লাহ। সম্প্রতিই গেলেন এরা। এবার মুকুলও।

ইতিহাসে বাঙ্গলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে এমন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বর্ষগণনা পদ্ধতি চালু হয়, যা এখনো, মূলÑ বা কমবেশি পরিবর্তিত রূপে বাঙ্গলাদেশে প্রচলিত রয়েছে। তবে, তার কোনোটিই আজকে বাঙ্গলাদেশের যে ভূখণ্ড, তাতে সূচিত হয়নি, বাঙ্গালী জাতির মতোই।

জাতীয় স্বাধীনতা, দেশ রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব একই সূত্রে গাঁথা। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটা অকল্পনীয়। এই তিনটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুবই দরকার। পরিষ্কার থাকা দরকার, এ তিনটির পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কেও।