ড. যোবায়ের আল মাহমুদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী সমাজের নানা পেশার নানা শ্রেণির প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে উত্থিত নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে আলাপ না করেই শুধু রাজনৈতিক দলগুলার সম্মতির ভিত্তিতে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করায় এটা এমনিতেই গণমানুষের সবার প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা হারিয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জনগণ রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে রক্ত দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠনের ম্যানডেট দিয়ে দিয়েছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে। এখন তাই গণঅভ্যুত্থানের সরকারের কাজ হচ্ছে বৈপ্লবিক সংস্কার করা এবং নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন করা।

বাংলাদেশের চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মার্কিন ইন্ধনের রেজিম চেঞ্জ বা কালার রেভোলিউশন বলে আবারও প্রোপাগান্ডা করা হচ্ছে।

নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) যে সেকেন্ড রিপাবলিকের দাবি জানাল এবং তার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের কথা বলল, এটা জুলাই বিপ্লবের গণ-আকাঙ্ক্ষার রাজনৈতিক দাবি।

বাংলাদেশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে দেশি-বিদেশি অব্যাহত প্রোপাগান্ডার মধ্যে একটা বড় সংযোজন হচ্ছে-তারা দাবি করছে, এটা ছিল আসলে একটা মিলিটারি ক্যু কিন্তু বাইরে দিয়ে একটা গণঅভ্যুত্থানের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের বৈপ্লবিক কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রকাঠামোর বিলোপ সাধন করে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা। এটা অবশ্যই একটা বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা এবং তার প্রতি জনমত আছে শুধু না, জনগণ রক্ত দিয়েছে এ জন্যই।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের চলমান সংকটের সমাধান কোন পথে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে প্রথম থেকেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংসদীয় নির্বাচনেই সমাধান খুঁজছেন বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক বোদ্ধা।