বাংলাদেশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে দেশি-বিদেশি অব্যাহত প্রোপাগান্ডার মধ্যে একটা বড় সংযোজন হচ্ছে-তারা দাবি করছে, এটা ছিল আসলে একটা মিলিটারি ক্যু কিন্তু বাইরে দিয়ে একটা গণঅভ্যুত্থানের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমেরিকা এবং পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে এই গণঅভ্যুত্থানের ব্যাপারে বিরোধী করে তোলা, যেন বাংলাদেশে আঞ্চলিক শক্তি আবার তাদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার কাজ করতে পারে। একপর্যায়ে আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনী পতিত সরকারের পক্ষে ভূমিকা পালন করে । ২০ জুলাই থেকে ইন্টারনেট শাটডাউনের সময় ঢাকার অন্তত দুটি পয়েন্টে নিরস্ত্র জনতার ওপর আর্মির গুলিবর্ষণের ঘটনা পরে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে, জনগণের ব্যাপক ক্ষোভ এবং দেশপ্রেমিক ও নীতিবান জুনিয়র অফিসারদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ৩ আগস্ট সেনাপ্রধান ঘোষণা দিলেন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি না চালানোর বিষয়ে।
৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে লাখো জনতা যখন কারফিউ ভেঙে পুলিশের নির্বিচার গুলির মুখেও সব বাধা পেরিয়ে ঢাকার রাজপথ দখল করে নেয় এবং উত্তরা, চানখাঁরপুল, মিরপুর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ীসহ সব দিক দিয়ে যখন লাখো জনতা এগিয়ে আসে, তখন আর্মির পক্ষে এই আন্দোলন দমনে গুলি চালানোর কোনো উপায়ই ছিল না। গুলির মুখে জীবন দিয়ে দেওয়া এই বিপ্লবী জনতাকে রোখার কোনো অবস্থা তখন সেনাবাহিনীর ছিল না। ফলে আর্মির গুলি না ছোড়ার সঠিক সিদ্ধান্তকে এখন ভারতের মিডিয়াসহ কূটনৈতিক মহল ‘মিলিটারি ক্যু’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এরা কি চেয়েছিল এ দেশের আর্মিও আন্দোলনরত লাখ লাখ জনগণের ওপর মুহুর্মুহু গুলি করতে? হাজার হাজার লাশ ফেলতে? দেশি-বিদেশি এসব প্রোপাগান্ডা মিশনের জানা দরকার, এ দেশের ছাত্র-জনতা কি অসীম সাহস আর দৃঢ়তা নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই। সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলি না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্যই সঠিক কাজ করেছে কিন্তু গুলি করতে রাজি হয়নি বলেই এই গণঅভ্যুত্থানকে মিলিটারি ক্যু বলা মানে ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক কর্তাসত্তাকে অস্বীকার করা।
ভারতের মিডিয়া আন্তর্জাতিকভাবে আরেকটা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, এই গণঅভ্যুত্থান নাকি ‘ইসলামপন্থিদের জঙ্গি আন্দোলন’ ছিল। এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণার উদ্দেশ্য হচ্ছে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে এই আন্দোলন সম্পর্কে ভুল বোঝানো যেন এই আন্দোলনের ফলে গঠিত সরকারকে সমর্থন তারা প্রত্যাহার করে নেয়। এই প্রোপাগান্ডার পক্ষে প্রমাণ হাজির করার জন্যই নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন হিযবুত তাহরীরের খেলাফতের দাবিতে করা মিছিলকে হাজির করা হচ্ছে। কয়েক মাস দেখা গেছে, কিছু স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে কালেমাখচিত কালো পতাকা ধরিয়ে দিয়ে মিছিল করানো হয়েছে খেলাফতের দাবিতে। কেউ কেউ বলছেন, এসবের পেছনে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য জড়িত। এই আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা মাহফুজ আলমকে ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকা হিযবুত তাহরীরের নেতা বলে অপপ্রচার চালায়। মূলত এই গণঅভ্যুত্থানে দেশের ছাত্রছাত্রী-কিশোর-যুবক, শ্রমজীবী-চাকরিজীবী, বাম- ডান; সেক্যুলার- ইসলামপন্থি, রাজনৈতিক- অরাজনৈতিক-সবার অংশগ্রহণ ছিল। ফলে এই আন্দোলনকে ইসলামপন্থিদের ‘জঙ্গি আন্দোলন’ বলে ভারতের নানা সরকারি এবং বেসরকারি মহল যে প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ শুরু করেছে, তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
এই গণঅভ্যুত্থান আদর্শিক দিক দিয়ে ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের মতো জনগণের গণতান্ত্রিক অভিপ্রায় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছে এবং আমেরিকার ১৭৭৬ সালের বুর্জোয়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক রিভোলিউশনের সঙ্গেই এর মিল বেশি। তবে পদ্ধতিগত দিক বিবেচনায় নিলে ফরাসি এবং রাশিয়ান বিপ্লবে যে পরিমাণ হত্যা ও ধ্বংস হয়েছে, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা সে পথে হাঁটেনি। খালি হাতে আর অনেক ক্ষেত্রে শুধু লাঠি আর জাতীয় পতাকা হাতে নিয়েই তারা রুখে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সব বাহিনীর নির্বিচার গুলি এবং হত্যাযজ্ঞকে। এদিক দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের মিল পাওয়া যায় ১৯৭৯-এর ইরান বিপ্লবের সঙ্গে তবে আদর্শিকভাবে ইরান বিপ্লবে যেখানে ধর্মীয় ভাবাদর্শকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ছিল, সেখানে বাংলাদেশের এই গণঅভ্যুত্থানের ভাবাদর্শ হচ্ছে বুর্জোয়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। ফলে এই আন্দোলনকে ‘ইসলামি মিলিট্যান্সি’ বলে যে ট্যাগ-সন্ত্রাস করছে কেউ কেউ, সেটা নিন্দনীয়।
সম্প্রতি আমেরিকা সফরে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই আন্দোলন ছিল নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত’। পরিকল্পিত ডিজাইনের এই কথাকে লুফে নিয়ে পতিত রেজিমের কথিত বুদ্ধিজীবীরা এবং ভারতীয় মিডিয়ার একাংশ এই আন্দোলনকে হাসিনা সরকারের পতনের জন্য আমেরিকার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে প্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্দোলনে গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে এবং এ দেশের গণমানুষের সক্রিয় কর্তাসত্তাকে স্বীকৃতি না দিয়ে আন্দোলনকে শুধু পরাশক্তির রেজিম চেঞ্জ আকারে তুলে ধরা। গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জনগণের গণক্ষমতার ভিত্তিতে একটা স্বাধীন সক্রিয় রাজনৈতিক কমিউনিটি আকারে পুনর্গঠনের যেকোনো সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হবে।
গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের ফলে যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলেই কোটা আন্দোলনের মতো একটা আন্দোলনে নির্বিচার গুলির ফলে সেই ক্ষোভ যে গণবিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে, তাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই রেজিম চেঞ্জ কিংবা কালার রিভোলিউশন তত্ত্ব হাজির করা হয়েছে। হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পতন যে এ দেশের জনতার আকাঙ্ক্ষা ছিল এবং ন্যায্য ছিল-এই বয়ানকে এ দেশের জনমানস এবং দেশি-বিদেশি নানা মহল থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এসব কাউন্টার বয়ান হাজির করা হচ্ছে। তারা চেষ্টা করছে শেখ হাসিনাকে ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী’ এবং ‘আমেরিকা বিরোধী’ হিসেবে হাজির করার।
অথচ আওয়ামী লীগের ইতিহাস আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পরাশক্তির প্রতি নতজানুতার ইতিহাস। গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী নানা চুক্তি করে ভারতকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক আগ্রাসনের সুযোগ করে দিল, সেই নয়া-ঔপনিবেশিক শাসন বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ নীরব। শুধু ভারত নয়, গত ১৫ বছর রাশিয়া এবং চীনের প্রতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার বশ্যতানীতি অবলম্বন করেছে এবং অর্থনৈতিক আধিপত্যের সুযোগ করে দিয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পুকুরচুরি তার প্রমাণ। রাশিয়াকে যে প্রতিযোগিতামূলক বাজার দরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ব্যয়ে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ দেওয়া হলো, এটা কেন অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন হবে না?
১৫ বছর ধরে যে এ দেশের ওপর ভারত-চীন-রাশিয়ার আঞ্চলিক এবং গ্লোবাল পরাশক্তির আগ্রাসন চালানো হয়েছে, তা অস্বীকার করা হচ্ছে কেন? একদিকে ভারত-চীন-রাশিয়া, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সমীকরণে সরকার যদি প্রথম বলয়ের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে গিয়ে দেশকে এই তিনটি দেশের অর্থনৈতিক এবং ভূরাজনৈতিক আগ্রাসনের ভূমিতে পরিণত করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আরেক পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এগিয়ে আসা ভূরাজনীতির অনিবার্য পরিণতি এটা হাসিনা সরকারের থিংক ট্যাংকরা জানত না? ১৫ বছরে তিনটি ভুয়া নির্বাচন করে জনগণকে রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ থেকে আউট করে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হাসিনা সরকারই ভারত-চীন-রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার জন্য নানা চুক্তি সম্পাদন করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এ দেশকে ভারতের নয়া কলোনিতে পরিণত করেছে।
তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই প্রফেসর ইউনূসের কথা সত্য, আন্দোলন সুপরিকল্পিত ছিল। এটার মানে এটা না যে এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা। বরং এটা ছিল এ দেশের ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক দলের সুপরিকল্পনা। ১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনের পরিকল্পনায় ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতারা কিন্তু ১৮ জুলাই আন্দোলনের পুরো মোমেন্টাম এবং স্পিরিট ধরে রেখে আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরপর ১৯ থেকে ২২ জুলাই এলাকাবাসী, অভিভাবক সমাজ, রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এবং শ্রমিকরা আন্দোলনে ছিলেন। ফলে বারবার আন্দোলনের এপিসেন্টার বা কেন্দ্রস্থল পরিবর্তিত হয়েছে। আর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্বিচার গুলি করে মানুষ মারাই একটা গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট তৈরি করে। আন্দোলনের একেক পর্যায়ে একেক রকম নেতৃত্ব কাজ করেছে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে গণ-আকাঙ্ক্ষা সেই সাধারণ আকাঙ্ক্ষাই এখানে নানা সেন্টারের মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি করে। আর গণআন্দোলনের যে ডাইনামিকস, তা এমনই শক্তিশালী ছিল, একটা পর্যায়ে তা অটোডাইনামিকসে রূপ নেয়।
গণআন্দোলনের এবং বিপ্লবের এই গতিবিদ্যা না বুঝে আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করলে তা সত্য তুলে ধরবে না। আন্দোলনের যে মাল্টিপল সেন্টার ছিল, তার প্রমাণ হচ্ছে আন্দোলনের পর সব সেন্টার যার যারা ভাবাদর্শ এবং রাজনৈতিক অভিপ্রায় অনুযায়ী বিভক্ত হয়ে গেছে এবং তারা এখন উল্টো একে অন্যের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত। তাহলে এ রকম একটা বিভক্ত নানা ফ্রন্টকে জুলাই আগস্টে কোনো একক গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করেনি। বরং কমন শত্রু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাই এক হয়। কিন্তু এ দেশের ‘ইসলামপন্থি’দের একটা অংশ সবার আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতা প্রকাশের জন্য স্পেস তৈরি করে সবার নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে এ রকম একটা উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর পক্ষে না থেকে অনেকেই তাদের নিজ নিজ মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছে এবং নিজ নিজ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মাঠে সক্রিয় হচ্ছে। এতে করে নানা মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত দেখা দিচ্ছে। নানা ফ্রন্টে আন্দোলনকারীরা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
দেশি-বিদেশি নানা এজেন্সির পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে কিংবা নিজস্ব পলিসির অংশ হিসেবে কিছু ইসলামপন্থি নিজস্ব ইসলামি ভার্সনের ভিত্তিতে শাসনপ্রণালি তৈরির যে দাবি জানাচ্ছে, আবার কারো কারো হাতে যে কালেমা লেখা কালো পতাকা ধরিয়ে দিয়েছে এজেন্সির কিছু লোকÑএসব কিন্তু একটা গ্র্যান্ড প্রজেক্টের অংশ। এর লক্ষ্য জুলাই গণআন্দোলন ইসলামি মিলিট্যান্টদের বা ডানপন্থিদের’ এই বয়ানের পক্ষে মিথ্যা সাজানো প্রমাণ হাজির করা। আবার এজেন্সির পাতানো খেলায় অংশ না নিয়ে অনেকেই আছেন নিজেরা ‘খেলাফতের’ দাবিতে সোচ্চার। এদের এই মিছিলকে পুঁজি করে দেশ ‘ইসলামি শাসনের’ দিকে যাচ্ছে এই জুজুর ভয় দেখিয়ে এ দেশের ডিপ স্টেটসহ সেক্যুলার মিডিয়া-এলিট পুঁজিবাদী গোষ্ঠীসহ অনেক অ্যাক্টরকে এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলে অনাস্থা প্রকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
২০২৪-এ কোনো সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হয়নি আবার কোনো ইসলামি বিপ্লবও হয়নি। হয়েছে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক মুভমেন্ট। ফলে এখন ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলোপ করে কীভাবে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এবং সবার সমতা, ন্যায্যতা, মানবাধিকারের সুরক্ষার নিশ্চয়তাসহ কীভাবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে একটা রাজনৈতিক কমিউনিটি আকারে আমরা সবাই ফাংশন করতে পারি, তার জন্য একটা সামাজিক চুক্তি করে জাতীয় সংহতির দিকে কীভাবে যাওয়া যায়, এসব নিয়ে কাজ করাই একটা কমন রাজনৈতিক কাজ হওয়া উচিত। দলমত-নির্বিশেষে সবাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পক্ষে থেকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করে যাওয়াই এই মুহূর্তে বেশি দরকারি।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

