ড. সিরাজুল আই. ভূঁইয়া

বাংলাদেশ আবার ইতিহাসের সেই চিরচেনা মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত জাতিকে দশক পিছিয়ে দেয় আর একটি সঠিক সিদ্ধান্ত প্রজন্মের ভাগ্য বদলে দেয়। ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো সাধারণ নির্বাচনি দিন নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের স্মৃতি ও বিস্মৃতির মধ্যে বেছে নেওয়ার দিন। এটি সেই দিন, যেদিন বাংলাদেশকে ঠিক করতে

ইতিহাস প্রায়ই নেতাদের স্মরণ করে তারা কোন যুদ্ধ জিতেছেন, কিংবা কোন কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেনÑএসব কিছুর জন্য। বিরল কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের স্থায়ী গুরুত্ব ক্ষমতা প্রয়োগে নয়, বরং ক্ষমতা প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই নিহিত। খালেদা জিয়া নিঃসন্দেহে এই দ্বিতীয় ধারার অন্তর্ভুক্ত। তার রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছিল

কিছু জীবন নীরবে শেষ হয়ে যায়। এমন জীবনের স্মৃতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা ছড়ালেও ধীরে ধীরে কোমল হয়ে ওঠে। আবার কিছু জীবন আছে, যা কোনো রকম সমাপ্তির সুযোগ না দিয়েই হারিয়ে যায়।

বিজয় দিবস-২০২৪ পূর্ববর্তী সব বিজয় দিবসের চেয়ে আলাদা। এটি শুধু অতীতের ত্যাগের স্মরণ নয়; বরং নতুন মুক্তির উদযাপন—জনসচেতনতার জাগরণ, নৈতিক সাহসের উত্থান এবং সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের ঘোষণা। জুলাই বিপ্লব ১৯৭১-এর আলোকে পুনর্জন্ম দিয়েছে, বহু বছরের স্বৈরতন্ত্র, নির্ভরতা ও আধিপত্যের চাপ থেকে জাতিকে মুক্ত

বাংলাদেশের ইতিহাসের এই সংকটময় সন্ধিক্ষণে জাতির ভবিষ্যৎ যাত্রাপথ নির্ভর করছে একটিমাত্র অখণ্ড সত্যের ওপর—কোনো দেশই তার শিক্ষাব্যবস্থার মানের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে না। অবকাঠামো মেরামত করা যায়, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যায়;

এরিস্টটলের শিক্ষা আজও ঢাকা ও দিল্লির মতোই প্রযোজ্য, যেমনটি ছিল এথেন্সে—রাজনীতি নাগরিকের আত্মার প্রতিফলন। যখন সমাজ নৈতিকতার দাবি ত্যাগ করে, তখন অবশ্যম্ভাবীভাবে তারা অদূরদর্শী নেতৃত্বের অধীনে পড়ে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, বিশেষত শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়। গুতেরেসের এই সফর এই সম্পর্ককে আরো গভীর করার সুযোগ এনে দেয় এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।