ব্রি জে (অব.) এইচ আর এম রোকন উদ্দিন

নব্বইয়ের গণআন্দোলনে জামায়াত ও বিএনপি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন করেছে। সে সময় তারা নির্যাতন সহ্য করেছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে, এমনকি সরকার গঠনেও অংশীদার হয়েছে। অথচ আজ সেই মিত্রতা শত্রুতায় রূপ নিয়েছে। সাইবার হ্যাকিং, অপপ্রচার, একে অন্যকে ধ্বংস করার প্রতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের জীবন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের কাহিনি নয়—বরং তা একটি জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, প্রতিরোধ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলার দলিল। খালেদা জিয়া সেই বিরল নেতৃত্বের প্রতীক, যার বিদায় মানে একটি যুগের অবসান।

বাংলাদেশ আজ তার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনের পর অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি মৌলিক দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় আসে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জুলাই বিপ্লবসংক্রান্ত অপরাধীদের বিচার এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী—বিশেষত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের ইতিহাস, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রগঠনে যে অবদান রেখে এসেছে, তা অনন্য এবং তুলনাহীন। এই বাহিনী কেবল একটি আধুনিক সামরিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি জন্মলগ্ন থেকেই জনগণের সেনাবাহিনী।

বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসে যে কয়জন নেতার নাম মানুষের হৃদয়ে অমোচনীয়ভাবে লিখিত রয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া তাদের শীর্ষে। আজ তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে জীবনযুদ্ধ লড়ছেন, আর পুরো দেশ যেন এক গভীর মানসিক অস্থিরতার মধ্যে নিমজ্জিত। হৃদয় শূন্য হয়ে আসা মানুষ

বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে—একদিকে রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়, অন্যদিকে একটি আন্তঃঅস্থায়ী সরকার দেশের প্রশাসন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে সুশৃঙ্খল করতে কাজ করছে। এমন সময়ে প্রয়োজন ছিল গঠনমূলক

বাংলাদেশ আজ এক কৌশলগত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ভৌগোলিকভাবে এটি এমন এক অবস্থানে অবস্থিত যেখানে উদীয়মান শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা, অস্থির সীমান্ত অঞ্চল ও বিভিন্ন বহিঃপ্রভাব একত্রে জটিল বাস্তবতা তৈরি করেছে। স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হলে ঢাকার প্রয়োজন একটি স্পষ্ট, ভারসাম্যপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য

পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চল। দুর্গম পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর ভারত-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা অবস্থান এই অঞ্চলকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যে এই পাহাড়কে নিয়ন্ত্রণ করবে, সে-ই আসলে বঙ্গোপসাগরের প্রবেশদ্বার এবং ভারতের অতি দুর্বল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের

নয়াদিল্লির ক্ষমতার করিডোর থেকে শুরু করে ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—সবখানেই ফ্যাসিবাদের উত্থানের লক্ষণ আজ স্পষ্ট। আর কোনো বিভ্রান্তি নেই। একসময় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত ভারত আজ ক্রমেই একটি কর্তৃত্ববাদী জাতীয়তাবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

চতুর্থত, সাহসী ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা গড়ে তুলতে হবে। ভারতের সীমান্ত লঙ্ঘন, অনুপ্রবেশ, হত্যা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ জাতিসংঘ, ওআইসি ও অন্যান্য ফোরামে উপস্থাপন করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে। আধুনিক হাইব্রিড যুদ্ধের একটি কৌশল হলো সমাজের ভেতরের বিভাজন—ধর্মীয়, জাতিগত, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিভেদকে

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী হচ্ছে ফেনী নদী। এটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত। নদীতীরের সংকীর্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে এক গুরুতর কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।