রেজাউল করিম রনি

একটা বিষয় আমরা সাদা চোখেই দেখতে পারি। আমরা প্রায়ই বলতে শুনি, ভারতের পশ্চিম বঙ্গের লেখকরা বড় বড় উপন্যাস লিখতে পারেন। তাদের উপন্যাসের আখ্যান হয় বহু বিস্তৃত। অন্যদিকে বাংলাদেশের লেখকরা উপন্যাস লিখতে পারেন না। পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস লিখতে না পারার অভিযোগ বাংলাদেশের বড় বড় লেখককেও ছেড়ে যায়নি।

আমরা এতদিন হুমায়ূন নিয়ে যত আলোচনা, মতামত-মাতম ইত্যাদি দেখেছি, তাতে হুমায়ূন পাঠের দিকটা আড়ালে চলে গিয়েছে। ফলে সেইসব রেটরিক্যাল/বাচালি কথাবার্তার বাইরে হুমায়ূনকে ‘পাঠ’ করা অতি সহজ কাজ নয় মোটেই। আরো গোড়া থেকে প্রশ্ন করা যায়, কীভাবে হুমায়ূনকে বা তার কোনো টেক্সট/রচনাকে পাঠ করতে হবে?

বিপুল কাজ আমাদের জন্য রেখে তিনি চলে গেলেন। যে কোন বিদায় কষ্টের। তবে তিনি সৌভাগ্যবান হাসিনার পতন দেখে যেতে পেরেছেন। অনেকে তা পারেননি; যেমন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তিনিও আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন।

প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, একমাত্র শহীদরা ছাড়া যারা এই আন্দোলনের ক্রেডিট দাবি করবে—বুঝতে হবে তারা এই আন্দোলনের স্পিরিটের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এখন জীবিত আর কারো ক্রেডিট নেই, আছে শুধু দায়িত্ব। আজ আবার অতি সংক্ষেপে কয়েকটা পয়েন্ট বলতে চেষ্টা করব। আশা করি, মনোযোগ দিয়ে আপনারা সঙ্গে থাকবেন লেখাটা শেষ না করা

একটা দেশে ফ্যাসিবাদ হুট করে কায়েম হয় না বা আকাশ থেকে আসে না। এর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পাটাতন তৈরি হতে থাকে ঐতিহাসিক বয়ানকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অর্জন কিন্তু ভারতীয় বাঙালি জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবীরা এই জনযুদ্ধকে একটা আওয়ামী যুদ্ধ ও ভারতের

বাংলাদেশের ইতিহাসের বয়ানের রাজনীতি যদি আমরা খেয়াল করি, তা হলে দেখাব এটার যে ঐতিহাসিক ন্যারেশন, তা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করেছে এবং হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাস শুরু হয়েছে ১৯৪৭ সাল থেকে।

ভারত বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে ঠিক এই কাজটিই করছে। এটা সত্য, বাংলাদেশে হিন্দু আছে এবং তাদের একটা বড় অংশ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বা রাজনৈতিকভাবে অশিক্ষা বা ভারতীয় বয়ানের প্রভাবের কারণে আওয়ামী লীগের সমর্থক।