ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি দ্বিতল হাটচাঁদনী ভবনটি। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এই স্থাপনা এখন অনেকটাই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের নিচতলায় বাধ্য হয়ে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করলেও দ্বিতীয় তলায় বাসাবাড়ির মতো বসবাস করছেন পাশে নির্মাণকাজ চলমান থাকা একটি ভবনের নির্মাণশ্রমিকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও অরক্ষিত থাকায় ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১৮ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার হাটচাঁদনী ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২১ সালে কাজ শেষ হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি টাকার বেশি। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ৬২টি দোকান। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও দোকানগুলো ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে নিচতলায় প্রায় ৮০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিজেদের সুবিধামতো জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে হাটের ইজারাদার সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার নিচতলায় ব্যবসা করার সুযোগ দিলেও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ব্যবসার জন্য নির্ধারিত দোকান বা স্থান পাননি।
ফলে ভবনের নিচতলা ও আশপাশের জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে পাশের ইউকেয়ার প্রকল্পের নির্মাণশ্রমিকেরা বসবাস করছেন। এদিকে পাশের ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডিতে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী সবুজ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেই নির্মাণসামগ্রী রাখা এবং শ্রমিকদের দ্বিতীয় তলায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ওই ভবন-সংক্রান্ত একটি চিঠি আমি এলজিইডি থেকে ইতোমধ্যে পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে কীভাবে নতুন ভবনের দোতলায় নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে এবং শ্রমিকরা সেখানে বসবাস করছেন, তা আমার জানা নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

