আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

দুই যুগ ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত ছয় কর্মকর্তা

ওচমান জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রাম

দুই যুগ ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত ছয় কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে দুই যুগেও পদোন্নতি হয়নি স্থায়ী কর্মকর্তাদের। পদোন্নতি না পেয়েই আগামী বছর অবসরে যাচ্ছেন অন্তত ছয় ডেপুটি কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির নেতাদের প্রভাব বিস্তারের কারণে গত ২৪ বছর ধরে তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। বছরের পর বছর সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রেষণে এসে উপরের পদগুলো বাগিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পদোন্নতির দাবিতে তারা নানা সময় আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু দুই যুগেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি আমলে নেয়নি। উল্টো বয়স ও চাকরিতে সিনিয়রদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের নিয়োগ দিয়েছে। এ অবস্থায় চাকরিতে জুনিয়রদের দ্বারা পরিচালিত হতে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেমন অস্বস্তিবোধ করছেন, তেমনি দাপ্তরিক কাজেও এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন অনেকে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বোর্ডের ছয় সহকারী কর্মকর্তা ডেপুটি পদমর্যাদা না পেয়ে গ্লানি নিয়ে অবসরে যাওয়ার সময় হয়েছে। এতে তাদের কর্মজীবনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। অথচ শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে টানা পাঁচ বছর চাকরির পর ডেপুটি কর্মকর্তা হওয়ার কথা। প্রবিধানে বলা আছে, ডেপুটি কর্মকর্তা পর্যায়ের ৬০ শতাংশ পদ স্থায়ী কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। বরিশালসহ দেশের অন্যান্য বোর্ডে এটি বাস্তবায়ন করা হলেও চট্টগ্রাম বোর্ডে এই বিধানের কোনো বাস্তবায়ন নেই।

প্রেষণে আসা সরকারি কলেজের শিক্ষকরা নিয়োগ পেয়ে গ্রেডসহ বছরের পর বছর নানা সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ বোর্ডে আগে থেকে কর্মরত না থাকায় মূল কাজ সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা পদোন্নতি বঞ্চিতদের চেয়ে তুলনামূলক কম। এতে বোর্ডের স্থায়ী কর্মকর্তারা কাজ বেশি করেও সব ধরনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে পিছিয়ে পড়ছেন।

পদবঞ্চিতরা জানান, ২০০৩ সাল থেকে তারা একই পদে কর্মরত রয়েছেন। আবেদন করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। যেসব পদে তারা যাওয়ার কথা। সেসব পদ দখলে নিচ্ছেন প্রেষণে আসা শিক্ষকরা। তারা জানান, নিয়ম অনুসারে বোর্ড চেয়ারম্যান একজন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হতে পারেন। আর বাকি পদগুলো স্থায়ী কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকেই পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু বিগত সময়ে কোনো চেয়ারম্যানই এ উদ্যোগ নেননি। ফলে পদোন্নতি বঞ্চিত স্থায়ী সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক অভিযোগ করে বলেন, বোর্ডের স্থায়ী কর্মকর্তারা হয়ে পড়েছেন অভিভাবকহীন। পদোন্নতির দাবি জানানো যেন অপরাধে পরিণত হয়েছে। ডেপুটেশন কর্মকর্তাদের বিধিবহির্ভূত তদবির ও নিয়োগ আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ইনসিটু প্রমোশনের মাধ্যমে এ অবিচারের অবসান চাই।

শিক্ষা বোর্ডের সহকারী সচিব মো. ওসমান গণি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডেই ৬৫–৭০ শতাংশ পদোন্নতির বিধান কার্যকর হলেও চট্টগ্রাম বোর্ডই একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে কর্মকর্তাদের দুই যুগ একই পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক ইসরাত আরা বেগম বলেন, সরকারি কলেজের শিক্ষকরা প্রভাষক পদে যোগ দিয়ে তদবিরের মাধ্যমে বোর্ডে এসে আমাদের পদগুলো দখল করেছেন। আমরা অবসরের দোরগোড়ায় এসে পড়েছি, অথচ প্রাপ্য সম্মান ও পদোন্নতি মেলেনি। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তহিদুল হক বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থায়ী কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিতে বৈষম্যের শিকার। দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা না করলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, শিক্ষা বোর্ড ১৯৯৭ সালের প্রবিধান অনুযায়ী স্থায়ী কর্মকর্তাদের ৬০ শতাংশ এবং প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের ৪০ শতাংশ পদোন্নতি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রামাণ্য কাগজপত্রও আমি পেয়েছি। কেন এতদিন পদোন্নতি দেওয়া হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে এবং বিধান অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন