চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় প্রায় ১০ হাজার নলকূপ ও তিন হাজারের অধিক টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।
উপজেলার ছনুয়া, পুঁইছড়ী, শেখেরখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, জলদী, বৈলছড়ী, কাথারিয়া, কালীপুর, সাধনপুর, খানখানাবাদ ও পুকুরিয়া ইউনিয়নের অন্তত তিন লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে খাল, বিল ও ছড়ার পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিসসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রাথমিক তথ্যাযায়ী, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ২৬টি নলকূপের মধ্যে ৪ হাজার ৫২৩টি সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ৫০৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৪২৭টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানিতে নলকূপের মুখ তলিয়ে যাওয়ায় এবং দূষিত পানি প্রবেশ করায় অনেক নলকূপ এখনো ব্যবহারের অনুপযোগী। কোথাও কোথাও ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠছে। ফলে অনেক পরিবার দূর-দূরান্ত থেকে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করছে।
তারা জানান, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি মোটরচালিত নলকূপ থেকে সীমিত পরিসরে পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও সেগুলো পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বিশুদ্ধ পানির সংকট আরো তীব্র হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জিত চন্দ্র সরকার বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকায় প্রাথমিক জরিপে উপজেলার ৮ হাজারের বেশি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে সঠিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগছে। ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামত ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব ক্যাম্পে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

