কোনো কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার

কোনো কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরা অব্যাহত রেখেছে অসাধু জেলেরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। নদীতে ইলিশ ধরে পাড়েই বসানো হচ্ছে মাছের বাজার। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে শিকার করা হচ্ছে ইলিশ।

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, বরিশালের উজিরপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ধ্যা নদীতে ইলিশ শিকারের অপরাধে ইমরান খলিফা নামের এক জেলেকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সন্ধ্যা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরার সময় ইমরান খলিফাকে আটক করা হয়। ইমরান খলিফা উজিরপুর উপজেলার রাকুদিয়া এলাকার আজাহার খলিফার ছেলে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে তাকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অপরাধে ইমরান খলিফাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সন্ধ্যা নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

টঙ্গিবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে পদ্মা নদী থেকে ২০টি অবৈধ চায়না চাই জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার দিঘীরপাড় সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া।

উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করে চর আবদুল্লাহপুর নৌ-পুলিশ। এ সময় টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানা চৌধুরী ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছাম্মৎ নিগার সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযানে নেমে দুই জেলেকে আটক করেছে মৎস্য বিভাগ। এ সময় মাছ ধরার এক হাজার মিটার অবৈধ জাল ও একটি ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে আটক এক জেলেকে এক হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা জাল জনসমক্ষে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টাং কলাপাড়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় জব্দ করা জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এর আগে গতকাল গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাবনাবাদ নদী ও আন্ধারমানিক মোহনা এলাকায় পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় জব্দ করা ১০০টিরও বেশি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ টাকা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলনবিলের সাতপুকুরিয়া, ডাহিয়া, বিয়াশ, পয়েন্ট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে বিকেল ৪টায় চলনবিলের তাজপুর এলাকায় এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করে প্রশাসন। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, চলনবিলের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে চলছে ইলিশ শিকার। নদীঘেঁষা দুর্গম চরাঞ্চল ও বিভিন্ন ঘাটে বসছে ইলিশের অস্থায়ী হাট। এসব হাটে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে সদ্য ধরা ইলিশ, যার মধ্যে রয়েছে ডিমওয়ালা মা ইলিশও। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পদ্মার তাজা ইলিশ কিনতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সি ক্রেতা। কেউ কিনছেন পরিবারের জন্য, কেউবা একাধিক ব্যাগভর্তি মাছ নিয়ে ফিরছেন বাড়িতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছের চাহিদা, ভালো দাম ও অধিক লাভের আশায় একশ্রেণির জেলে এবং মৌসুমি ব্যবসায়ী নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সক্রিয় রয়েছেন। নদী থেকে ট্রলারে করে মাছ এনে সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে অস্থায়ী বিক্রেতারা বসাচ্ছেন খুচরা বাজার। মাছ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী হাট, পাশাপাশি জমে উঠেছে খাবারের দোকানসহ ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্যও।

অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও নৌপুলিশের অভিযান চললেও দুর্গম চরাঞ্চল, জনবলসংকট, সীমিত বরাদ্দ এবং অভিযানের খবর আগেভাগে ছড়িয়ে পড়ার কারণে অবৈধ শিকার ও বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর, চরজানাজাত, বন্দরখোলা ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের পদ্মাতীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ইলিশ শিকার ও বেচাকেনার এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কাজিরসূরা, হীরাখাঁর বাজার ও বাংলাবাজারসহ পাঁচ থেকে সাতটি স্থানে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলে মাছ কেনাবেচা। মাছ কেনার জন্য ঘাট এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকায় অস্থায়ী বাজারটি রীতিমতো জমজমাট হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদী থেকে ১০ জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও আটক ব্যক্তিদের জরিমানা করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন