ঝিনাইদহ পৌরসভায় আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গবাদিপশু জবাইয়ের লক্ষে নির্মিত দেশের অন্যতম সর্বাধুনিক কসাইখানাটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লাইভ-স্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (খউউচ) আওতায় এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে (১৬ জুন) সর্বাধুনিক কসাইখানাটির উদ্বোধন করবেন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
প্রকল্পের তথ্যমতে, কসাইখানাটি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি এবং ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টালটেক এনএকে (জেভি) কসাইখানার নির্মাণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক এই কসাইখানাটি ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সম্পূর্ণ আধুনিক এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কসাইখানার মূল উৎপাদন বা পশু জবাইয়ের স্থানটি আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
ঝিনাইদহে পৌর প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, সর্বাধুনিক কসাইখানাটিতে গরু ও ছাগল আলাদাভাবে জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দুটি পৃথক স্লটার লাইন রয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরো জানান, পশু জবাইয়ের আগে ধৌতকরণ এবং তাদের প্রয়োজনীয় মেডিকেল বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য রয়েছে বিশেষ হোল্ডিং জোন। সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চামড়া ছড়ানো এবং কাটার জন্য রয়েছে স্লটার বক্স, ওভারহেড রেল, নিউমেটিক কাটার, ওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, ওজন মাপার স্কেল, চামড়া তোলার মেশিন, ইলেকট্রিক করাত এবং বিশেষ হুক। মাংসের গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং সংরক্ষণের জন্য রয়েছে আধুনিক চিলিং রুম ও কম্প্রেশার রুম।
এদিকে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য কসাইখানায় নিজস্ব জেনারেটর, সাবস্টেশন এবং পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। কসাইখানায় রয়েছে শক্তিশালী ওয়াটার পাম্প, গরম পানি সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ফিল্টার বেডসহ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট।
ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ মিল্টন জানান, এই আধুনিক কসাইখানাটি চালু হওয়ার ফলে ঝিনাইদহ পৌরবাসী সম্পূর্ণ রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংসের নিশ্চয়তা পাবেন এবং যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ থেকে ঝিনাইদহ শহর রক্ষা পাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

