ফরিদগঞ্জের আষ্টা বাজার এলাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ একটি জরাজীর্ণ সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকা এই সেতুর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও যানবাহন।
চলাচলের অন্য কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে এই সেতু ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে আষ্টা খালের ওপর নির্মিত ১৫ থেকে ২৫ ফুটের এই সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দুই পাশের রেলিং ভেঙে অনেক আগেই খালে পড়ে গেছে। সেতুটির নিচে ফাটল ধরেছে, পলেস্তারা খসে গিয়ে বিপজ্জনকভাবে রড বেরিয়ে আছে। যা দিয়ে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, যানবাহন ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ এই জরাজীর্ণ সেতুটি মরণ ফাঁদ জেনেও চলাচলের অন্য কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম, তাফাজ্জল হোসেন বেপারীসহ আরও অনেকে বলেন, গুপ্টি এলাকা থেকে আষ্টা বাজার হয়ে উপজেলা সদরে আসার জন্য এই সেতু ছাড়া অন্য কোনো সংযোগ সড়ক নেই।
তাই ঝুঁকি জেনেও তারা বাধ্য হয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। এখানে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
আষ্টা মহামায়া পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়হান, ইয়াসিনসহ আরও কয়েকজন বলেন, প্রতিদিন ভয় নিয়ে আমরা এই সেতুটি দিয়ে পারাপার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। দ্রুত এখানে নতুন সেতু নির্মাণ না করলে এলাকাবাসীর কোনো স্বস্তি নেই।
আষ্টা বাজার ব্যবসায়ী সোহেল হোসেন বলেন, এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে ৩৫ বছর আগে। সেতুটি করার ১০ বছর পরই প্রথমে পলেস্তারা খসে পড়ে। এখন রড বের হয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে কর্মকর্তারা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গেলেও নতুন সেতু নির্মাণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আষ্টা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল মেহেদী হাসান জানান, আমি এই কর্মস্থলে নতুন এসেছি, ব্রীজের দুর্বাস্থা দেখে আমি সরেজমিনে দেখে এসেছি। সাময়িক সংস্কার করে দিব। বরাদ্দ প্রাপ্তিসাপেক্ষে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, বিষয়টি আমারও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দ্রুত নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-80f214.jpg)