আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বগুড়ায় এক প্রার্থীর ঋণ ৭৬২ কোটি টাকা

সবুর শাহ্ লোটাস, বগুড়া

বগুড়ায় এক প্রার্থীর ঋণ ৭৬২ কোটি টাকা

বগুড়ার মোট ৭টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ খেলাপি প্রার্থী বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম। জেলার ১২ উপজেলার মোট ৭টি আসনের মধ্যে এত বিশাল পরিমাণে ঋণ কোনো প্রার্থীরই নেই। ২০০১ সালে ধানের শীষ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। বর্তমানে ২৪ বছরে সম্পদ যেমন বেড়েছে তেমনি ঋণ রয়েছে ৭৬২ কোটি টাকা।চলতি বছর তার হাতে নগদ ৩৬ কোট টাকার উপরে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হলফনামায় তার নামে ৪টি এন আই এ্যাক্ট এর মামলা দেখানো হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ দাখিল হলফনামার তথ্য মতে, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে শুধু ব্যাংক ঋণ, শেয়ার হাউজ ঋণ, বাড়ি ভাড়া বাবদ মোট ঋণ ২ শত ৬১ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ২১ টাকা ঋণ। তার হলফনামায় ৩৯৬ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে করা অর্থ ঋণ আদালতের ৬৬৪/২৫ নম্বর মামলার বাদি ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এই ঋণ পরিশোধ না করায়, ব্যাংকটি গেল বছর অক্টোবর মাসে কাজী রফিকুল ইসলাম ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলাও দায়ের করলে দেশের অধিকাংশ মিডিয়ায় সংবাদে শিরোনাম হয়। ওই সময় গত ফ্যাসিস্ট আমলে আওয়ামীলীগের ক্ষমতাধর নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলামের সাথে তার পার্টনার রয়েছে বিষয়টি চাউর হয়।

কাজী রফিকুল ইসলাম সারিয়াকান্দির কর্নিবাড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কাজী এফাজ উদ্দীনের ছেলে। তার স্ত্রীর নাম কাজী রশিদা ইসলাম। তার বয়স ৬৯ বছর। তিনি ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস। তিনি নিজেকে একজন পেশাদার ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। আয়ের উৎস কৃষিখাতে ১ লাখ টাকা, স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, শেয়ার, বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত ১৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪৫৯ টাকা, চাকরি/কোম্পানির প্রদত্ত সম্মানীভাতা ১২ লাখ টাকা।

অপরদিকে র‍্যানস রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, কোম্পানির নামে নিজেকে গ্রান্টার হিসেবে দেখিয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৯৬ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার ২৭৪ টাকা রফিকুল ইসলাম। নিজের ঋণের গ্যারান্টর হওয়ার পাশাপাশি সে নিজেই র‍্যানস রিয়েল এস্টেট লি. এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এমডি কাজী রফিকুল ইসলাম নিজেই।

ত্রয়োদশ নির্বাচনের হলফনামায় তার নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৬ কোটি ৮ লাখ ৬৪ হাজার ১২৬ টাকা। এক্সিম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এস.আই.বি.এল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টটি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৯টি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে মোট টাকার পরিমাণ ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ৯ শত টাকা।

এছাড়াও মো. ফকরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ লি, শেয়ার অ্যান্ড ফান্ড ট্রান্সফার ২ কোটি ২ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা। শুধু তার স্ত্রীর নামে জমানো অর্থের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭০ টাকা, ব‍্যান্স রিয়েল এস্টট লি. এ তার নামে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও তার স্ত্রীর নামে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ও.কে. প্রপার্টিজ লি. এর আরো ২ শেয়ারে তার নামে ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও তার স্ত্রীর নামে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকা ছাড়া বর্তমান মূল্যসহ তার নামে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার ১৫২ টাকা ও তার স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৪ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৩ টাকা।

বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেল ইত্যাদি বাবদ বর্তমান মূল্য ৩০ লাখ টাকা ও তার স্ত্রীর নামে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরের তৈরি গহনার মূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, তার ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও তার স্ত্রীর নামে ৮০ হাজার টাকা, তাদের দুজনের আসবাবপত্রের মোট মূল্য ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, তার আগ্নেয়াস্ত্র ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৮ টাকাসহ তার নামে মোট ৪৩ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার ৬৯৩ টাকা ও তার স্ত্রীর নামে মোট ২ কোটি ৭৩ লাখ ১৪ হাজার ১৪৩ টাকা দেখানো হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রফিকুলের কৃষিজমির পরিমাণ ২১৯.৫ শতাংশ, যার মূল্য ৫৯ লাখ ১৪ হাজার ৩ শত ৯৬ টাকা ও তার স্ত্রীর নামে কৃষিজমির পরিমাণ ২৪ শতাংশ, যার মূল্য ৯০ হাজার টাকা। তার নামে ৩৮ শতাংশ, অকৃষি জমি ৫৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ও তার স্ত্রীর নামে শতাংশ উল্লেখ ছাড়া অকৃষি জমি বাবদ ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আছে। ৫০ লাখ টাকার মূল্যমানের ৩টি বাড়ি, সব মিলিয়ে তার নামে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ও তার স্ত্রীর মোট আছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ও.কে. এন্টারপ্রাইজ লি. এর কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুবাদে তার প্রাপ্ত মোট শেয়ার ৪ লাখ ৮০ হাজার ও একই কোম্পানি থেকে তার স্ত্রীর নামে শেয়ার ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

২০২৫ সালে তার ৬৪ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ টাকার সম্পত্তির বিপরীতে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬ শত ১৫ টাকা আয়কর দেখানো হয়েছে। সেই সাথে তার স্ত্রীর ৫ কোটি ১১ লাখ ৭২ হাজার ৮ শত ৬৮ টাকার বিপরীতে আয়কর দেখানো হয়েছে ৮৯ লাখ ৮ শত ৭৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ আছে খেলাপি ঋণ থেকে দায় মুক্তি নিতে উচ্চ আদালত থেকে নিয়েছেন স্টে অর্ডার। এ ব্যাপারে কাজী রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, হলফনামায় যা উল্লেখ রয়েছে তার সম্পূর্ণ সত্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন