চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এসএম জাহিদুল আওয়াল বর্তমানে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে তিনি ‘মেসার্স জাহেদ এন্টারপ্রাইজ, শাহ আব্দুল মালেক কুতুব এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন।
আমার দেশের হাতে আসা নথিপত্র অনুযায়ী, এসএম জাহিদুল আওয়াল সম্প্রতি শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) কক্সবাজার অঞ্চলের একটি টেন্ডারে অংশ নিয়েছেন। গত জুনে প্রকাশিত ওই দরপত্রে তার প্রতিষ্ঠানের নামেই ই-টেন সাবমিশন হয়েছে। এর আগেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দরপত্রে তিনি অংশ নেন- ‘শাহ আব্দুল মালেক কুতুব এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে।
সরকারি চাকরিতে থেকে ঠিকাদারি করা সরাসরি সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিমালার লঙ্ঘন। ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার ১২(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত থাকতে পারেন না। এ ধরনের লেনদেন গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত ।
এ বিষয়ে জাহিদুল আওয়াল আমার দেশকে বলেন, এ দুটি নামে তার কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই। এগুলো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামের তিনজন প্রকৌশলী (নাম প্রকাশ করেনি) আমার দেশকে জানান, দরপত্র খোলার পর যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ দেওয়া হয়। কেউ যদি সরকারি চাকরির পাশাপাশি ঠিকাদারি করেন, তাহলে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর তা প্রমাণ হলে তার নাম বাদ যায়। তবে আবেদন যে কেউ করতে পারেন।
জানা গেছে, এসএম জাহিদুল আওয়াল শুধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারই নন, রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেন।
তার বিরুদ্ধে আরো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সে মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন জাহিদুল আওয়াল।
পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কমিটিতে তাকে সহসভাপতি করা হয়।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে ঠিকাদারি করে কোটি টাকার কাজ নিতে পারেন? প্রশাসন তা দেখেও কি না দেখার ভান করে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও এসএম জাহিদুল আওয়ালের ছবি ও পদবি রয়েছে, যেখানে তাকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সুপারিশেই তিনি বয়স না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পান।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান আমার দেশকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা কাজ করলে অবশ্যই তিনি আইন অমান্য করলেন। কেউ যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় এবং সেটি প্রমাণিত হয়, অবশ্যই আমরা আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

