বান্দরবানের নাইড়্গ্যংছড়ি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শাহ আজিজ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগের দিন পর্যন্ত ছিলেন আওয়ামী লীগ পরিবারের। এই পরিচয়ে বান্দরবান জেলা দপ্তর ধাপিয়ে বেড়াতেন। নির্বাহী প্রকৌশল কিংবা সহকর্মী প্রকৌশলীদের পাত্তাই দিতেন না তিনি।
তৎকালীন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদকে স্বজন হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেছেন সর্বত্র। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে জনস্বাস্থ বিভাগের উন্নয়নে করেছেন লুপাট। তবে সরকারের পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদারদের সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন বর্তমানে।
একজন সরকারি কর্মকর্তা তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকতে পারেন না। কিন্তু অতীতের সরকারের ছত্রছায়ায় তিনি ২০০৬ সাল থেকে বান্দরবানে ঘুরেফিরে দাপটে কাটাচ্ছেন প্রায় ১৯ বছর। পাহাড়ে দীর্ঘ এই সময়ে অবৈধপন্থায় আয়ের টাকায় বিভিন্ন স্থানে করেছেন নামে বেনামে সম্পত্তি।
ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ওয়াশ ব্লক, গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, জনবসতিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে এই কর্মকর্তা যে দুর্নীতি করেছেন তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
এদিকে সরেজমিনে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, শাহ আজিজ ১৯ বছরে জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধিকাংশ প্রকল্প দুই আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে বাস্তবায়নের নামে হরিলুট করেছেন। বর্তমানেও থামেনি তার দৌরাত্ব। নাইড়্গ্যংছড়ি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত বুধবার বাইশারী ইউনিয়নের করলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনের দেওয়াল ঘেষে অনিয়মের মাধ্যমে ওয়াশ ব্লকের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ থাকার পরও তড়িগড়ি করে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ স্কুলের ভবনের মূল দেওয়া থেকে ওয়াশ ব্লকের কোন ধরনের দূরত্ব রাখা হয়নি।
এছাড়া বক্স না করে ময়লার উপর বেইজ ঢালায় করেছেন। এই বিষয়ে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জাফর আলম বলেন, স্কুলের পাশে জায়গা ছিল না। তাই কাজে প্রশ্ন থাকলেও করার কিছু ছিল না। এদিকে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করার বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শাহ আজিজ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ শুনে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।
অন্যদিকে জানতে চাইলে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এর নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, আমি বর্তমান কর্মস্থলে আসার পর থেকে দেখছি তাকে। কিছু ঠিকাদারও তার বিষয়ে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

