আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অভিযোগ আর ওয়ারেন্ট ছাড়াই নিরপরাধ মানুষ ধরেন এসআই নাজমুল

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

অভিযোগ আর ওয়ারেন্ট ছাড়াই নিরপরাধ মানুষ ধরেন এসআই নাজমুল

হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার এসআই নাজমুলের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষদের আটক, নির্যাতন ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। আদালতের ওয়ারেন্ট, এজাহার এবং অভিযোগ ছাড়াই ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া, নিরপরাধ মানুষকে ডাকাতি, মাদক ও বৈষম্যবিরোধী মামলার ভয় দেখিয়ে আতংক ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২০ জানুয়ারি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এবং ২৫ জানুয়ারি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরারব লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের আলেকপুর গ্রামের জাহের আলীর ছেলে মোশারফ মিয়া।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ জানুয়ারি তার বড় ভাই কামরুল হাসানকে (৩৬) থানায় ধরে নিয়ে যায় এসআই নাজমুল। কামরুলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ, এজাহার কিংবা ওয়ারেন্টও ছিলো না। বিনাদোষে কামরুলকে থানার একটি রুমে দীর্ঘ প্রায় ১৪ ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখে। সেখানে নিয়ে তার মোবাইল ফোনসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। তালাবদ্ধ রুমে রেখে তাকে ডাকাতি, মাদক, বৈষম্যবিরোধীর মতো মারাত্মক মামলায় আসামি করা হবে বলে হুমকি দিতে থাকে। এসআই নাজমুলের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে কামরুল। এক পর্যায়ে কামরুলের মোবাইলের হোয়াটসএ্যাপ ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে টাকা নিয়ে এসে ছাড়িয়ে নিতে বলতে বাধ্য করায় এসআই নাজমুল হাসান।

ফোন পেয়ে রাতেই কামরুলের ছোট ভাই মোশারফ থানায় যায় এবং এসআই নাজমুলের হাতে ৫০ হাজার টাকা দেয়। টাকা নিয়ে কামরুলকে মুক্তি না দিয়ে আরো ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। দাবিকৃত মুক্তিপণের ৩০ হাজার টাকা না দেওয়ায় কামরুলকে গত বছরে মাধবপুর থানার একটি পুরাতন মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছিল।

এ বিষয়ে এসআই নাজমুল হাসান টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কামরুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, ওয়ারেন্ট ছিলো না। সঠিক সময়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, শুধু কামরুলই নয়, এসআই নাজমুলের ধারাবাহিক নির্যাতনে শিকার হয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বহু মানুষ।

তাদের মধ্যে উপজেলার শাহজানপুর ইউনিয়নের বনগাঁও এক্তিয়ারপুর গ্রামের মনাই মিয়ার ছেলে ফরাশ উদ্দিন। যাকে গত ২৪ অক্টোবর এসআই নাজমুল হাসান কোনো অভিযোগ, ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করে। থানার একটি রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। দীর্ঘ প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ফরাশ উদ্দিনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ নভেম্বর থানায় ঢেকে নেয় তেলিয়াপাড়া এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আবু আল মুর্শেদ রুবেলকে। থানায় যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় আটক রেখে পুরাতন মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন জেল বন্ধি থেকে জামিনে মুক্ত হয় রুবেল। বিনা অপরাধে নাজমুলের নির্যাতনে রুবেলের পরিবারটি তছনছ হয়ে গেছে।

জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খানকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে শোন এরেস্টের জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্ভর ৬৮১৫ নং স্মারকে আদালতে আবেদন করেছিল এসআই নাজমুল।

গত বছর অর্থাৎ ৮ এপ্রিল ২০২৫মাধবপুর থামায় রুজু হওয়া মামলা নং ১৫ এর তদন্তে প্রাপ্ত আসামি করার আবেদন করে এসআই নাজমুল। পরে মামলার বাদী সশরীরে এসে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের বিরুদ্ধে আদলাতকে অবগত করলে আদালতে এসআই নাজমুলের আবেদন নামঞ্জুর করে।

এসআই নাজমুলের আটক বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও টাকা আদয়ের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। খুব শিগগিরই একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...