আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পরশুরাম-ফুলগাজী

৩০ পাম্প বন্ধ, হুমকিতে ৫ হাজার হেক্টর বোরো চাষ

এমএ হাসান, পরশুরাম-ফুলগাজী (ফেনী)

৩০ পাম্প বন্ধ, হুমকিতে ৫ হাজার হেক্টর বোরো চাষ

ফেনীর পরশুরাম-ফুলগাজী উপজেলার কহুয়া নদীতে পানি সংকটের কারণে ৩০টি সেচ স্কিম বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে হুমকির মুখে পড়েছে দুই উপজেলার ৫ হাজার হেক্টর বোরো চাষ।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মুহুরী-কহুয়া নদীর মোহনায় কৃষকরা অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে প্রায় ৫০টি সেচপাম্প চালুর মাধ্যমে বোরো চাষাবাদ শুরু করে। তবে পূর্ব সাহেবনগর, গদানগর ও অলকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা এ বাঁধ কেটে দেওয়ায় পানি কহুয়া নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে না। এছাড়া পরশুরাম উত্তর বাজারের খোন্দকিয়া সংলগ্ন ব্রিজের নিচে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে কহুয়া নদীর ওই স্থানে পানি আটকে আছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান, পানি সংকটের কারণে পরশুরাম পৌর এলাকার উত্তর ও দক্ষিণ কোলাপাড়া, বাঁশপদুয়া, খোন্দকিয়া, বাউরখুমা, বাউরপাথর, বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর, দক্ষিণ টেটেশ্বর, চিথলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সাতকুচিয়া, চিথলিয়া, রাজষপুর, শালধর, ধনিকুন্ডা, মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর, কালিকৃষ্ণনগর, মেলাঘর, কালিকাপুর, ফুলগাজীর পশ্চিম ঘনিয়ামোড়া, পূর্ব ঘনিয়া মোড়া, উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর, উত্তর টেটেশ্বর, দক্ষিণ টেটেশ্বর, বৈরাগপুর, কিসমত টেটেশ্বরসহ প্রায় ৩০টি গ্রামে পানির সংকটে কৃষকদের বোরো ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে পৌর এলাকার বেড়াবাড়িয়ার রাবার ড্যামটি কৃষকের গলারকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাবার ড্যামটি কোনো কাজেই আসছে না কৃষকের। রাবার ড্যামের কারণেও কহুয়া নদীতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে না।

বৈরাগপুর গ্রামের কৃষক একরামুল হক জানান, কহুয়া নদীর মুখ বালু ভরাট ও ব্রিজের নিচে ময়লা ফেলায় পানি প্রবাহ নেই। এছাড়া মুহুরী নদীর উজানের অংশে ভারত সীমান্তে পানি আটকে রাখায় বাংলাদেশের অংশে পানি প্রবাহ কমে গেছে। পানি প্রবাহ না থাকায় কহুয়া নদী একেবারেই শুকিয়ে গেছে। সেচ পাম্প চালু করার কিছুক্ষণের মধ্যে পানি সংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে পরশুরাম উপজেলায় ৩ হাজার ২শ হেক্টর ও ফুলগাজী উপজেলায় ৪ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এসব জমির বেশিরভাগ মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দিয়ে সেচ দেয়া হয়। এবার কহুয়া নদীতে পানি থাকায় দুই উপজেলার প্রায় ৩০ টি সেচপাম্প বন্ধ হয়ে গেছে।

ফুলগাজীর পূর্ব ঘনিয়ামোড়া গ্রামের সেচপাম্পের মালিক মনির আহমদ জানান, মুহুরী ও কহুয়া নদীর মোহনায় ১৫ থেকে ২০ বার বাঁধ নির্মাণ করে কহুয়া নদীতে পানি প্রবাহের চেষ্টা করা হয়। তবে পরশুরামে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা বারবার এসব বাঁধ কেটে দেয়ায় জমিগুলোতে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি কৃষক ও সেচপাম্প মালিকরা জানানোর পর তাৎক্ষণিক সার্ভেয়ার ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তাকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন