গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ভাঙ্গারহাট বাজারসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সেতুতে বড় ধরনের গর্ত ও ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, পথচারী এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আতঙ্কের মধ্যে ব্রিজ পারাপার হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০-২০০১ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজ নির্মাণ করে। মেসার্স হক অ্যান্ড সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ব্রিজ ভাঙ্গারহাট বাজার ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের ওপর ভারী মালবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করা এবং বেনাপোলগামী দূরপাল্লার বাসগুলো নিয়মিত পার্কিং করার কারণে সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে ব্রিজের মাঝামাঝি অংশে ফাটল দেখা দেয়। বর্তমানে সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ফাটল আরো বিস্তৃত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের মাঝখানে কংক্রিটের অংশ ভেঙে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানচালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করতে হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক শেখ বলেন, ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। অনেকদিন ধরেই এখানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এখন গর্তও হয়েছে। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। দ্রুত মেরামত না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ইজিবাইক চালক সোহেল মিয়া বলেন, ব্রিজের মাঝখানে গর্ত হওয়ায় গাড়ি নিয়ে উঠলে ভয় লাগে। বিশেষ করে রাতে সমস্যা বেশি হয়। অনেক সময় হঠাৎ চাকা গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার উপক্রম হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্চিতা জয়ধর বলেন, ‘স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নারী-পুরুষ সবাই এই সেতু ব্যবহার করে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সলেমান শেখ বলেন, দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় না থেকে জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজ সংস্কার কিংবা প্রয়োজন হলে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সেতুর ওপর ভারী যানবাহন পার্কিং ও মালামাল লোড-আনলোড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


এক মাসের সাজা এড়াতে ছয় মাস পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার