সকালবেলা গ্রামের স্নিগ্ধ বাতাসে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় কয়েকজন পথচারী। সড়কের পাশে ঝোপের ধারে পড়ে থাকা শরীরটি যেন সময়ের গভীর এক রহস্য হয়ে পড়ে আছে। ডান হাতে চকচকে নেইলপলিশ এখনো অমলিন, কিন্তু সেই হাতে আর কোনো স্পন্দন নেই।
স্থানীয়দের চোখে-মুখে উদ্বেগ, শঙ্কা কে এই নারী? কোথা থেকে এলেন? কী নির্মম পরিণতি হলো তার? বয়স হবে আনুমানিক পঁয়ত্রিশ। চুলগুলো এলোমেলো, পরনে সাধারণ পোশাক, আর মুখে এক অজানা আতঙ্কের স্থির ছাপ। প্রাণহীন শরীরটি যেন বলে যাচ্ছে কোনো এক ভয়ংকর রাতের কথা।
সোমবার সকালে পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি সড়কের পাশে, ঝিওরী এলাকায় পড়ে থাকা এই নারীর নিথর দেহ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
কিন্তু কে এই নারী? কোন ঘরে তার জন্ম? কার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি? তার নেইলপলিশের মুছে যাওয়ার আগেই যেন সময় থমকে গেছে। হয়ত তিনি মা ছিলেন, হয়ত বোন, হয়ত কারো স্ত্রী, কিন্তু তার পরিচয় এখন শুধুই ‘অজ্ঞাত’।
যে জীবন কোনো একসময় স্বপ্ন দেখেছিল, ভালোবাসতে চেয়েছিল, বাঁচতে চেয়েছিল-সেই জীবন এক অন্ধকার রাতের নির্মমতার শিকার হলো। কেড়ে নেওয়া হলো তার পরিচয়, তার অস্তিত্ব।
পুলিশ এখনো তদন্ত করছে, কিন্তু সমাজের কাছে থেকে যাচ্ছে এক নীরব প্রশ্ন—এই নারীর মতো আরও কত জীবন এভাবে নিভে যাবে? নীল রঙের চকচকে নখের আড়ালে কত গল্প হারিয়ে যাবে অন্ধকারে?
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

