আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পোড়াদহ মেলায় প্রশাসনের ঘোষণাতেই নিষিদ্ধ ‘বাঘাইর’

সবুর শাহ্ লোটাস, বগুড়া

পোড়াদহ মেলায় প্রশাসনের ঘোষণাতেই নিষিদ্ধ ‘বাঘাইর’

বগুড়ার গাবতলী উপজেলা মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় সন্ন্যাসী পুজা উপলক্ষে মাঘ মাসের শেষ অথবা ফালগুন মাসের প্রথম সপ্তাহের বুধবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে ‘পোড়াদহ’ মেলা। সেই হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি চারশ বছরের ঐতিহ্যের এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে মেলা উপলক্ষে গত মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন ‘বাঘাইর’ মাছ বিক্রি ও প্রদর্শন নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণায় বলা হয়, বাঘাইর মাছ মেলায় এনে ক্রয় বিক্রয় ও প্রদর্শন করলে তাকে ১ বছরের জেলসহ গুণতে হবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান ও মৎস্য অফিসার আরিফ আহমেদ এ ঘোষণা দিলেও মেলায় এর কোনো কার্যকারিতা নেই। এ ঘোষণা মানছেন না বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। মেলায় প্রদর্শনে থাকা এ মাছ দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। অনেকে আবার্ কিনছেন মাছ।

বিজ্ঞাপন

সুখদহের তীরে এই মেলা মাত্র ১দিনের হলেও ঐ অঞ্চলের মানুষের ঈদের চাইতেও মহা ধুমধামের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই মেলাকে ঘিরে একবছর ব্যাপী মানুষ তীর্থের কাকের মত বসে থাকে। মেলা আজ হলেও গত মঙ্গলবারই থেকেই সব পূর্নতা পায়। গতকাল এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে সকল প্রস্তুতি শেষ। মেলায় মাছের দোকান, মিষ্টির দোকান, কাঠের দোকান, কসমেটিক্স এর দোকান, বাচ্চাদের খেলাধুলার সরঞ্জামের দোকানসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানে পশরা সাজিয়েছে।

মেলায় মাছ কিনতে আসা আব্দুলস্নাহ ইবনে আজিজ বলেন, এবার মেলায় মাছের দাম অনেকটা বেশি। তবে আগে বাঘাইর মাছ দেখা যেত না এবার বাঘার মাছও উঠেছে। সিরাজগঞ্জ থেকে জমির উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম ২৭ কেজি ওজনের বাঘাইর মাছ এনেছেন। তারা দাম হাঁকাচ্ছেন ৫০ হাজার টাকা। রুই কাতলা ৫শ থেকে ১৫শ টাকা কেজি, ব্রিগেড সাড়ে ৩শ থেকে ৬শ টাকা, বাঘাইর মাছ ১৫শ থেকে ২হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বড় মাছ যেমন বোয়াল, কাতল ১২শ থেকে ১৫শ টাকা কেজি ও অন্যান্য ছোট মাছ গুলো ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। মেলায় নারী-পুরুষের ভিড় ছিল অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক বেশি।

এছাড়াও এবারের মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হলো মাছের মিষ্টি। আলিফ মিষ্টি ভান্ডারের মালিক মোকছেদুল বলেন, আমাদের দোকানে এবার ১৫ কেজি ওজেনর কাতল মাছের মিষ্টি তৈরি করা হয়েছে। এটিই হবে দেশের সবচেয়ে বড় মিষ্টি। যার দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও ১০ কেজি ওজনের চিতল, ৪ কেজি ওজনের রুই মাছ, ৫ কেজি ওজনের ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন সাইজের মিষ্টি রয়েছে। এই মিষ্টিগুলো বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ টাকা কেজি দরে। এছাড়াও সাধারণ বিভিন্ন সাইজের মিষ্টি প্রতি কেজি ৩শ থেকে ৩শ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এই পূর্ব বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। একসময় এই এলাকার পথঘাট ছিল ধুলোয় পরিপূর্ণ। শহীদ জিয়ার সময় থেকেই শুরু উন্নয়ন।

সরেজমিন মেলায় গিয়ে মহিষাবানের রাজু, দুর্গাহাটার মিনহাজুল, গোলাবাড়ির হাবিবুল্লাহ, ধর্মগাছার আব্দুল্লাহ ইবনে আজিজসহ অনেকের সাথে কথা হয়। তারা জানিয়েছেন এবারের মেলায় মিষ্টির দাম অনেক বেশি। মাছের দামও চড়া। তাই মাছ ও মিষ্টি কিনতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। দাম বেশি হলেও ঐতিহ্যবাহী মেলায় এসে মাছ না কিনলে কেমন হয়।

উপজেলার দুর্গাহাটা, সুবোধ বাজার, দাড়াইল, লাঠিগঞ্জ বাজার পেরীরহাট, মহিষাবান, পারানির পাড়া, গোলাবাড়ি, পাঁচমাইল, ধোরা, মরিয়াসহ আরো কয়েকটি স্থানে মেলা বসানোর চিত্র গতকাল চোখে পড়ে। মেলায় সার্কাস, মোটর সাইকেল, মাইক্রো-কার খেলা, যাদু প্রদর্শন ও নাগোরদোলা সহ বিনোদোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হরেক রকমের খেলনা ও কসমেটিকস সামগ্রীর ব্যাপক সমারোহ ঘটে।

পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি একই ইউনিয়নের মষিবান পালপাড়ায় ত্রিমোহনী নামক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে বউ মেলা। এখানে শুধু নারীরা কেনা বেচা করবে, পুরম্নষদের কোন প্রবেশধিকার নেই।

মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সন্ন্যাসীপুজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ ও জামাই মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ ও জামাই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, সন্ন্যাসী পুজা উপলক্ষে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে, জানানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন