মনোনয়নপত্র সংগ্রহের তৃতীয় দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ফিরেছে নির্বাচনি আমেজ। এর আগে রোববার ও সোমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ২৩ প্রার্থী। পরদিন মঙ্গলবার অর্থাৎ তৃতীয় দিনে ৫৫০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই প্রার্থীরা দলে দলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। এ পর্যন্ত যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এখনো ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের প্রার্থী মনোনয়ন নেননি।
তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থাকলেও মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় ৩১ আগস্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
রাকসুর কেন্দ্রীয় ১৯ টি পদে ১৬৮ জনের মধ্যে ভিপি পদে ৭ জন, জিএস পদে ৫টি, এজিএস পদে ৭ জন, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ৫ জন, সহকারী ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ৩ জন, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক পদে ৩ জন, সহ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক পদে ৪ জন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ৪ জন, সহকারী মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ৩ জন, সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।
এছাড়া বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ২ জন, সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫ জন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৭ জন, সহকারী তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৫ জন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৪ জন, সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ২ জন, পরিবেশ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সহকারী পরিবেশ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।
এ দিকে তিনদিন মিলিয়ে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধির ৫টি পদে ১৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। হল সংসদের বিভিন্ন পদে ৩৬৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।
জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে মনোনয়ন নেওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, আজকের পরিবেশটা অনেক আমেজপূর্ণ তবে অনেকে এখনো মনোনয়ন নেননি। অনেকে দেখছি শোডাউন দিয়ে মনোনয়ন নিচ্ছেন তবে আমি এই কালচার থেকে বেড়িয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছি।
মনোনয়ন বিতরণ নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আজকে যারা ফর্ম তুলতে আসছে তারা আমাদের অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের যে উৎসাহ, উদ্দীপনা, অংশগ্রহণ সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা যে ৩৫ বছর যে বঞ্চনার শিকার তার একটা প্রতিফলন হতে যাচ্ছে। আমরা তাদের অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে সাহায্য করব।
নির্বাচন পেছানো হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, আলোচনা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম।
মনোনয়ন বিতরণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন পেছানো হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, আলোচনা অব্যাহত আছে। আমরা ইতোমধ্যে বেশকিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচন পেছানো হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, আলোচনা অব্যাহত আছে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র আবাসিক হল থেকে একাডেমিক ভবনে স্থানান্তর, ভোটার তালিকায় ছবি সংযুক্তি ও সাইবার বুলিং রোধে একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

