ভোলায় ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, পাচারের অভিযোগ

ভোলায় ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, পাচারের অভিযোগ

ভোলায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ২৯০ বস্তা সরকারি সার বেশি দামে কালোবাজারে পাচারের অভিযোগে স্থানীয় জনতা কর্তৃক জব্দ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের দারোগার খাল এলাকায় নৌপথে ট্রলারে করে সারগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে গোডাউনে সিলগালা করে দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত কম মূল্যে বিতরণের জন্য এই সার বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের না দিয়ে স্থানীয় এক বিএডিসি কর্মকর্তার যোগসাজশে রাতের অন্ধকারে ট্রলারে করে সারগুলো মাদারীপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। জনগণের সন্দেহ হলে তারা ট্রলারটি আটকে দেয় এবং মাঝি শহীদকে আটক করে। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারগুলো জব্দ করেন এবং স্থানীয় একটি গুদামে রেখে তা সিলগালা করেন।

বিজ্ঞাপন

আটক ট্রলারের মাঝি শহীদ দাবি করেন, চর ইলিশা গ্রামের রফিক মাঝি ও মান্নান বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার ‘মেসার্স মিজান ট্রেডার্স’ থেকে এই সারগুলো কিনেছেন। ভোলার বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পাঠানোর জন্য তার মাধ্যমে সারগুলো নেওয়া হচ্ছিল। তবে মাঝির এই বক্তব্য মানতে নারাজ স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, ট্রলারের মাঝির কাছ থেকে পাওয়া একটি রসিদে ৮০ বস্তা ডিএপি সারের প্রতি বস্তার মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হিসেবে মোট ৮৪ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। তার প্রশ্ন—যদি ৮০ বস্তার রসিদ থাকে, তবে বাকি ২১০ বস্তা সার কোথা থেকে এলো?

কৃষক মাকসুদ অভিযোগ করেন, ডিলাররা প্রায়ই কৃষকদের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সার উত্তোলন করেন এবং বেশি লাভের আশায় তা জেলার বাইরে পাচার করেন। এর ফলে ভোলার কৃষকরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা অর্জনকারী এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট বিএডিসি সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার ‘মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের’ স্বত্বাধিকারী মিজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি; তিনি বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন।

তবে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, সারগুলো ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া ও বরিশালের হিজলা বা অন্য এলাকার (সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন) কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস জানান, জব্দকৃত সারের অনুকূলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তাই সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সারগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন