চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছেই। নভেম্বরের প্রথম চার দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩২ জন, মারা গেছেন তিনজন। এর মধ্যে গত ৩ নভেম্বর এক দিনেই ডেঙ্গুতে মারা যান তিনজন। তাঁদের দুজন সীতাকুণ্ডের এবং একজন সাতকানিয়ার বাসিন্দা। সব মিলিয়ে চলতি বছরের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪০৬ জন। মারা গেছেন ৩৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৮৪ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বুধবার ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানায়, নভেম্বরের প্রথম চার দিনে আক্রান্ত ৩৩২ জনের মধ্যে মহানগর এলাকায় ১৪৯ জন, বিভিন্ন উপজেলায় ১৫৮ জন এবং অন্যান্য জেলা থেকে আসা ২৫ জন রয়েছেন।
৩ নভেম্বর মারা যাওয়া তিনজন হলেন সীতাকুণ্ডের দুই বছর পাঁচ মাস বয়সী শিশু হাসনাত, একই উপজেলার ৪২ বছর বয়সী কামরুন নাহার এবং সাতকানিয়ার ৫১ বছর বয়সী চেমন আরা বেগম।
মাসভিত্তিক হিসাবে, জানুয়ারিতে ৬৮, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭ এবং জুনে ১২২ জন আক্রান্ত হন। জুলাইয়ে আক্রান্ত হন ৫৩৬ জন, আগস্টে ১ হাজার ২০২, সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৩০ এবং অক্টোবরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০৮ জন। নভেম্বরের প্রথম চার দিনে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৩২ জন।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে, মহানগরে ৩ হাজার ৫৫৬, বিভিন্ন উপজেলায় ৩ হাজার ৮১ এবং অন্যান্য জেলা থেকে আসা ৭৬৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৪ জন। এরপর কর্ণফুলীতে ৩৪৩, বাঁশখালীতে ২৫২, রাঙ্গুনিয়ায় ১৯৯, আনোয়ারায় ১৭৩, সাতকানিয়ায় ১৬৩, পটিয়ায় ১৫১, রাউজানে ১৪৮, হাটহাজারীতে ১১৮, মিরসরাইয়ে ১১২, চন্দনাইশে ১০২, বোয়ালখালীতে ৯৯, লোহাগাড়ায় ৮২, ফটিকছড়িতে ৭৬ এবং সন্দ্বীপে ৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে ২১ জন নারী, ১১ জন শিশু ও সাতজন পুরুষ। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৮৪ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ২২ জন নারী ও ২৪ জন শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৪৩৩, নারী ২ হাজার ২১১ এবং শিশু ১ হাজার ৭৬২ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম থাকলেও জুলাই থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অনেক রোগী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। শুরুতেই চিকিৎসা নিলে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসাসেবার কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

