ঝুট ব্যবসা ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-কৃষক দলের সংঘর্ষ, আহত ১০

উপজেলা প্রতিনিধি, শ্রীপুর (গাজীপুর)

ঝুট ব্যবসা ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-কৃষক দলের সংঘর্ষ, আহত ১০

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিক পরিবহনের বাসে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও কৃষক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি শ্রমিকবাহী বাস ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গাড়ারণ এলাকার আরবেলা ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং কারখানার সামনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. আলাউদ্দিন (৩৪), মাহাবুব আলম (৩২), দেলোয়ার হোসেন (৩০), সিফাত (৩০), জুনায়েদ (২২), মো. মাসুম আহমেদ (৩৫) ও মোবারক হোসেন বাবু (৩৪)। আহতরা বিএনপি ও কৃষক দলের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। তাদের স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বরমী ইউনিয়ন কৃষক দলের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মাসুম আহমেদ অভিযোগ করেন, তিনি আরবেলা ফ্যাশন লিমিটেডে শ্রমিক পরিবহনের বাস পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এ নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান শামীম তার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা এবং মাসিক ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তার দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

তিনি আরও বলেন, “কারখানার সামনে কথা বলতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান শামীম। তিনি বলেন, আগামীদিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে কৃষক দলের নেতা মাসুম আহমেদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। চাঁদা দাবি ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

স্থানীয় এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রথমে কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠি ও রড নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকটি বাসের কাচ ভাঙচুর হয়।

শ্রীপুর থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। কয়েকজন আহত ও বাস ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন