বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে জাতীয় পরিচয়পত্র পরিষেবা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন হতে সংবিধিবদ্ধ নতুন কমিশনে স্থানান্তরের কূট পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে ।
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে জাতীয় পরিচয়পত্র পরিষেবা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন হতে সংবিধিবদ্ধ নতুন কমিশনে স্থানান্তরের কূটপরিকল্পনার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ উসমান গনি, সহকারী উপজেলা নির্বাচন অফিসার আশরাফুল আলম, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোহাম্মদ গোলাম ছবুর, নাজমা আক্তার, আইডিইএ ২ প্রকল্পের কর্মচারি জুন্নুন আহমেদ। বক্তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের যাবতীয় সেবা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা নিরাপদ মনে করেন। বক্তারা আরো বলেন, ভোটার তালিকা ও এনআইডি প্রস্তুত একই হৃৎপিণ্ডে গঠিত। একটি পরিবর্তন হলে অপরটির মৃত্যু ঘটবে। এদিকে তারা আইডিইএ ২ প্রকল্পের ২ হাজার ২৩১ জন জনবলের চাকরি জাতীয়করণের দাবিও জানান।
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনে রাখার দাবিতে বৃহস্পতিবার ‘স্ট্যান্ড ফর এনআইডি’ কর্মসূচি পালন করেছেন, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দিন বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন অফিসার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় বক্তব্য দেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোছাইন। অবস্থান কর্মসূচিতে সহকারী উপজেলা নির্বাচন অফিসার চয়ন চন্দ্র সরকার, অফিস সহায়ক শুক্কুর আলী, ডাটা এন্টি অপারেটর মাহেদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম শান্ত, নাঈম ঈসলাম, সিকিউরিটি স্টাফ আল আমিন, নিরাপত্তা প্রহরী সাবরীনসহ, স্থানীয় ও এলাকাবাসী এবং সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে জাতীয় পরিচয়পত্র পরিষেবা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন হতে সংবিধিবদ্ধ নতুন কমিশনে স্থানান্তরের কূটপরিকল্পনার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জামালগঞ্জ নির্বাচন অফিসের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। নির্বাচন অফিসের আয়োজনে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুস সালাম, নির্বাচন অফিসের স্টাফ মোশাররফ আলম মুসা, আফজাল হোসেন শাহীন, মোজাহারুল ইসলাম, তারা মিয়া।
কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সারাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার দাবিতে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে নির্বাচন কর্মকর্তা দিলারা ইসলাম নীলার নেতৃত্বে মানববন্ধনে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা এনআইডি ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের আওতায় রাখার দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এনআইডি সেবা নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকা উচিত, কারণ দীর্ঘদিন ধরে ইসি দক্ষতার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পরিষেবা স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীন থেকে সংবিধিবদ্ধ নতুন কমিশনে স্থানান্তরের কূটপরিকল্পনার প্রতিবাদে সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ ভবনের গেটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচির কারণে নির্ধারিত সময়ের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসের সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার জান্নাত ইসলাম, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. মহাসিন, আবু বক্কর, স্ক্যানিং অপারেটর আরজু ফকির ও অফিস সহায়ক মো. রাসেলসহ বেশ কয়েকজন কর্মচারী।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পরিষেবা স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের আওতা থেকে সংবিধিবদ্ধ নতুন কমিশনের অধীনে স্থানান্তরের কূটপরিকল্পনার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে জেলা নির্বাচন অফিস কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিরাজগঞ্জের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুর রহমান মিঞা।
মানববন্ধনে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুর রহমান মিঞা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশন দক্ষতার সঙ্গে এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে এটি নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকা উচিত। তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র পরিষেবা স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের আওতা থেকে সরিয়ে নতুন সংবিধিবদ্ধ কমিশনে স্থানান্তরের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। শেষে, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই জাতীয় পরিচয়পত্র পরিষেবা রাখার আহ্বান জানানোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শেষ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাফিস রায়হান, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরুল হাসান, অফিস সহকারী মো. মিজানুর রহমান, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. হোসেন আলী, মো. শাকিল রানা, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. মনিরুল ইসলাম, অফিস সহায়ক মো. আতিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নির্বাচন কমিশনের আওতা থেকে ন্যাশনাল আইডি কার্ড সেবা হস্তান্তরের সিন্ধান্তের উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে গোপালগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা নির্বাচন অফিসের সামনের সড়কে দাড়িয়ে হাতে হাত ধরে ঘন্টাব্যপী এ মানবন্ধন কর্মসূচী পালন করেl। কর্মসূচীতে অংশ নেন জেলা ও সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই কর্মসূচী পালন করে জেলার মুকসুদপুর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিস। মানববন্ধন চলাকালে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান সরকারকে অবগত করতে এনআইডি সেবা হস্তান্তর না করার বিষয়ে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থান করেন বক্তারা।
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনে রাখার দাবিতে বৃহস্পতিবার ‘স্ট্যান্ড ফর এনআইডি’ কর্মসূচি পালন করছেন, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিন সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত (দুই ঘন্টা) উপজেলা নির্বাচন অফিসার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোছাইন। তিনি জানান, ভোটার তালিকা ও এনআইডি একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনে রাখার পক্ষে ইসির পূর্বের সংলাপগুলোতে অংশীজনরা মতামত দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে একটি আইন করে শুধু এনআইডি সেবা সুরক্ষা সেবা বিভাগে নেওয়ার চেষ্টা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যমান আইনটি বাতিল করে এনআইডি ইসির অধীনেই রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
কিন্তু মাঝপথে দেখা যাচ্ছে, আলাদা করে একটি কমিশন বানিয়ে এনআইডি তার অধীনে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো। এনআইডি ইসির অধীনে থাকবে, এটি যৌক্তিক দাবি। এনআইডি ইসির অধীনে না থাকলে নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হবে, এমন উদ্বেগ যৌক্তিক। এনআইডি আলাদা হলে নির্বাচন ব্যবস্থাই বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, এনআইডি এমনভাবে জন্ম হয়েছে যে এটা কমিশন থেকে আলাদা করার মতো নয়। ডাটাবেজ একটা। কোনো প্রতিষ্ঠান এনআইডি নিতে হলে ভোটার তালিকাও নিতে হবে। এনআইডি নিলে ভোটার তালিকা ব্যাহত হবে। এনআইডি চলে গেলে ভোটার তালিকায় ভাটা পড়বে। এনআইডির জন্ম হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সুতরাং এটি এখানেই থাকা দরকার।
অবস্থান কর্মসূচিতে সহকারী উপজেলা নির্বাচন অফিসার চয়ন চন্দ্র সরকার, অফিস সহায়ক শুক্কুর আলী, ডাটা এন্টি অপারেটর মাহেদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম শান্ত, নাঈম ঈসলাম, সিকিউরিটি স্টাফ আল আমিন, নিরাপত্তা প্রহরী সাবরীন সহ, স্থানীয় ও এলাকাবাসী এবং সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

