ভোলার লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বিডিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের নারীকর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইউনুছ পাটওয়ারীর বাড়িতে যান। এ সময় ওই এলাকার নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) নারীকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হেনস্তা করেন।
একজন নারীকর্মী বিষয়টি তার স্বামী, রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনকে জানান। জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে রুবেলের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকেও গালাগালি করা হয়। পরে রুবেল জসিম উদ্দিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে তার ওপর হামলা ও হাতাহাতিতে জড়ান।
নিজামুল হক নাঈম বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যেই বিএনপির আরও নেতাকর্মী বাজারে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি জানান, তিনি তার নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থল ত্যাগের নির্দেশ দিলে ফেরার পথে পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ১৫ জন গুরুতর আহত হন, যারা বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, জামায়াতের সহায়তায় বিডিপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে লালমোহনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, মাগরিবের পর আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট ক্যাডাররা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১২–১৫ জন আহত হন, যার মধ্যে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের নারীকর্মীদের দাওয়াতি জনসংযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া ও পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে ফের সংঘর্ষ হয়।
তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত ৯ জন ভর্তি হন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
শনিবার সকাল এগারোটায় তিনি জানান, বিডিপির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

