আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বগুড়ায় আলোচিত যুবলীগ নেতা মতিনের ১৩ বছর জেল

বগুড়া অফিস

বগুড়ায় আলোচিত যুবলীগ নেতা মতিনের ১৩ বছর জেল

দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় বগুড়ার আলোচিত যুবলীগ নেতা আব্দুল মতিন সরকারকে ১৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন জ্যেষ্ঠ জেলা জজ মো. শহীদুল্লাহ। তবে রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন মতিন। হত্যাসহ একাধিক মামলা থাকায় গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মতিন সরকার বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মজিবর রহমান সরকারের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়ে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর মতিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক বগুড়া কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। এর আগেই ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তার সম্পদ ক্রোকসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয় আদালত।

দুদকের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, মতিনের বিরুদ্ধে মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষী ছিলেন। সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন করায় তিন বছরের ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলাজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন মতিন সরকার ও তার ছোট ভাই শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার। মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিই ছিল তাদের মূল পেশা। কেউ বাধা দিলেই করা হতো হত্যা। এসব ঘটনায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এর আগে একটি অস্ত্র মামলায় মতিনের ২০ বছরের সাজা হয়েছে। এছাড়া তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধানে নামেন দুদকের বগুড়া কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। অনুসন্ধানে মতিনের এক কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৪৯৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের কথা বেরিয়ে আসে। আর অবৈধভাবে অর্জন করে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই কলেজে ভর্তির কথা বলে এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন তুফান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে তুফানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভাইয়ের এমন কাণ্ডে মতিনও গা-ঢাকা দিতে বাধ্য হন। পরে দুই ভাইকেই বহিষ্কার করে দল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন