চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে রোববার সকাল থেকে তুমুল সংঘর্ষ চললেও সেনা-পুলিশের উপস্থিতি নেই। অন্তত চার ঘণ্টা ধরে কোনো আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা আমার দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
তিনি জানান, রোববার সকাল থেকে দ্বিতীয়বার সংঘর্ষ হয়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত কোনো সেনা ও পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দুইজন উপ-উপাচার্য, প্রক্টর আহত হয়েছেন। উপাচার্যকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেও দেখা যায়, সেনা-পুলিশের উপস্থিতি নেই।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাঝোতা করতে গেলে দ্বিতীয়বার হামলা করা হয়।
এই বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের মুখপাত্র রাসেলকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও প্রথমে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে রাসেল কল রিসিভ করলেও ব্যস্ত আছেন বলে কেটে দেন।
দুপুর ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে চলছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ককটেল বিস্ফরণ ও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনায় চবির উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরও আহত হয়েছেন।
এরআগে শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা গ্রামে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন স্থানীয়রা। এরপর দুপক্ষের শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
মূলত দুই নম্বর গেট মাছ বাজারে শাহাবুদ্দিনের বাসায় ভাড়া থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিফা খাতুন। তিনি বাসায় প্রবেশের শেষ সময়েরর আগেই অর্থাৎ রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আসেন। এ সময় তাকে বাসার গেটে ঢুকতে দেয়নি দারোয়ান। এতে দুজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান নারী শিক্ষার্থীকে মারধর করে।
এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন শিক্ষার্থীরা। মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন স্থানীয়রা। পরে শিক্ষার্থীরাও চবির সোহরাওয়ার্দী হলের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে দুপক্ষের শুরু হয় সংঘর্ষে জড়ান। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ গাড়ি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় সংঘর্ষস্থলে।
চবি মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, বহু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। যাদের অবস্থা খুবই গুরুতর আমরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
আহত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, আমরা রাত বারোটাতেই আমাদের একাধিক নিরাপত্তা টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় তাদের এক জায়গায় এনে দিক নির্দেশনা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। সময় মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিও ছিল না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

