জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনও গণতন্ত্রপপন্থি হতে পারে না। চব্বিশ হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ছাব্বিশে একটি নির্বাচন হয়েছে। চব্বিশ না হলে বাংলাদেশে ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের সরকার ও বিরোধী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের যদি উপহাস করা হয়, তাহলে তা নিজেদের সঙ্গেই গাদ্দারির সামিল হবে।
শুক্রবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ছাত্র শিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মমিনুল হক সরকার।
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, নির্বাচনের সময় আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ছিল। আমরা গণভোটের পক্ষে ছিলাম। বর্তমান সরকার তখন ‘হ্যাঁ’- এর পক্ষে ছিল না, বরং নীরবে ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। পরে জনরোষের মুখে পড়ে তাদের নেতারা গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর গণভোটে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষের রায়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে ৬৫ বিধিতে আলোচনা করেছিলাম, যাতে গণভোট হারিয়ে না যায় এবং এর প্রতি সম্মান দেখানো হয়। যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হতে পারে না। এখনো সময় আছে, গণভোটের পক্ষে ফিরে আসুন গনভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।
সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকের দিকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য পরিবর্তন এবং জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসানোর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল গঠন করে টিকে থাকতে পারেননি।
নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, একসময় নারায়ণগঞ্জকে প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হতো। এটি ছিল শিল্পের রাজধানী। কিন্তু আজ নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়েছে। বরং সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ত্বকী হত্যার বিচার কি মানুষ পেয়েছে? নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের পূর্ণ বিচার কি হয়েছে? দফায় দফায় এই শহরকে শুধু লাশ উপহার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আগে অনেকে হুঙ্কার দিয়ে বলতেন, ‘খেলা হবে’। এখন তারা কার সঙ্গে খেলছেন? তারা কি এখনো নারায়ণগঞ্জে আছেন? নতুন করে নারায়ণগঞ্জে কোনো গডফাদার তৈরি হোক, আমরা তা চাই না।
সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের নাম ঘোষণা করেন ড. শফিকুর রহমান।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

