বাংলাদেশের সামনে ছিল সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। মিরপুরে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় জয়ের পথেই ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু শেষ দিকে ব্যাটিং ধস আর অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি–টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা।
টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই জশ ইংলিসকে ফিরিয়ে দেন নাসুম আহমেদ। এরপর নাহিদ রানার গতির সামনে টিকতে পারেননি ইনফর্ম কুপার কনোলি। ১ রান করে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ৪ ওভারে ৩৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে।
সেই চাপ আরও বাড়ান মোস্তাফিজুর রহমান। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ ২০ রান করে ফিরলে ৭ ওভারে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫১/৩। তবে এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। দুজনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে রান।
ডেভিড মাত্র ২৫ বলে ৪৫ রান করে আউট হলেও রেনশ ছিলেন দুর্দান্ত। রিশাদের এক ওভারে টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রেনশ। তার ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে নাসুম ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানের ব্যাটে দুই ওভারেই আসে ৩৩ রান। তানজিদ ১৫ বলে ৩০ রান করে ফিরলেও রান তোলার গতি কমেনি। সৌম্য সরকার ১৫ রান করে বিদায় নেন, কিন্তু সাইফ ও পারভেজ ইমন আক্রমণ চালিয়ে যান।
১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১২২/২। সাইফ ৩৯ ও পারভেজ ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তখনও ম্যাচ বাংলাদেশের নাগালেই ছিল। কিন্তু পারভেজ ৩৬ রান করে আউট হওয়ার পর ধীরে ধীরে চাপ বাড়তে থাকে। এরপর ৪২ রান করা সাইফও সাজঘরে ফেরেন।
শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪৪ রান। উইকেটে ছিলেন তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেন। তবে ১৭তম ওভারে মাত্র ২ রান আসে, সঙ্গে আউট হন শামীম। সেখান থেকেই ম্যাচ হেলে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার দিকে।
শেষ পর্যন্ত হৃদয়দের লড়াই যথেষ্ট হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ করতে পারে ১৮৯ রান। ফলে ৭ রানের জয় নিয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া এবং নিশ্চিত করে টি–টোয়েন্টি সিরিজ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

