মিরসরাইয়ে ট্রেন-পিকআপ সংঘর্ষ, ৬ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

উপজেলা প্রতিনিধি, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

মিরসরাইয়ে ট্রেন-পিকআপ সংঘর্ষ, ৬ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবাহী একটি পিকআপের সঙ্গে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ডাউনলাইন প্রায় ছয় ঘণ্টা পর পুনরায় সচল হয়েছে। রেলওয়ের উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেনের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ সরিয়ে নেওয়ার পর রোববার বিকেল ৪টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই রেলওয়ের কর্মীরা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথমদিকে আপলাইন (চট্টগ্রাম-ঢাকা) সচল করা সম্ভব হলেও ডাউনলাইন বন্ধ ছিল। পরে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও লাইনের ওপর থাকা প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেললে বিকেল ৪টার দিকে ডাউনলাইনও চালু করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, লাইন সচল হওয়ার পর সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় দরবারটিলা এলাকায় একটি বালুবাহী পিকআপ রেললাইন অতিক্রম করার সময় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে গেলেও চালক ও হেলপার সময়মতো গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বিত হয়।

দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন হাসান জানান, রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত পিকআপটি সরিয়ে লাইন দ্রুত সচল করা হয়েছে। বর্তমানে রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে পিকআপটির চালক ও হেলপার রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ট্রেন আসতে দেখে তারা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে বারোমাসি পাহাড়ি হরাইল্যা ঢালা ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসন শুরুতেই এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো বলে তারা দাবি করেন।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন