মাদকাসক্ত সন্তানকে হত্যা করে দায় স্বীকার মা-বাবা’র

মাদকাসক্ত সন্তানকে হত্যা করে দায় স্বীকার মা-বাবা’র

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকাসক্ত সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করে বস্তায় ভরে লাশ ড্রেনে ফেলে দেয় বাবা করুনা সরকার ও মা রানী সরকার। এরপর লাশ উদ্ধার হলে বাবা নিজেই বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টা না যেতেই পুলিশ মামলার বাদী বাবা করুনা সরকার ও মা রানী সরকারকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা নিজ হাতে সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করে।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার (১৬ জুন) ফতুল্লার শিয়ারচর এলাকায় এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ড্রেন থেকে নিহত রাজু সরকারের বস্তাবন্দি রক্তমাখা লাশ উদ্ধার করে। একই রাতে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিহতের বাবা করুনা সরকার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বুধবার রাতে করুনা সরকার ও তার স্ত্রী রানী সরকারকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের নিকট সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, নিহত জনি সরকার মাদকাসক্ত এবং বখাটে স্বভাবের ছিলো। মাদকের টাকার জন্য প্রতিনিয়ত সে তার বাবা-মাকে চাপ প্রয়োগসহ মারধর করতো। সোমবার রাতেও টাকার জন্য খারাপ ব্যবহার করে। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে খাবার খেয়ে জনি সরকার ঘুমিয়ে পড়লে প্রথমে রুটি বানানোর কাঠের তৈরি বেলুন দিয়ে মাথায় এবং মুখে আঘাত করে বাবা করুনা সরকার। এতে জনি সরকার অচেতন হয়ে পড়লে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে।

হত্যাকাণ্ডের পর সাড়ে ৩ ঘণ্টা সন্তানের লাশ নিয়ে পাশেই বসেছিল বাবা-মা। এরপর রাত দুইটার দিকে হাত-পা বেধে একটি বস্তায় ভরে নিহতের বাবা নিজেই মাথায় করে লালখা মোস্তফার বাড়ির গলির ড্রেনে ফেলে রেখে যায়।

পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত নেমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিহতের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন