আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

উদ্যোগ নেই সরকারের

চাঁদা তুলে নদী ভাঙন রোধের চেষ্টা ঢাল চরবাসীর

এম লোকমান হোসেন, চরফ্যাশন (ভোলা)

চাঁদা তুলে নদী ভাঙন রোধের চেষ্টা ঢাল চরবাসীর

মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় নিজ উদ্যোগে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন ভোলার চরফ্যাশনের দু’শত বছরের পুরোনো ঢাল চরবাসী। তাদের অভিযোগ, বার বার সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি তারা। এমনাবস্থায় নিজেদের চাঁদার টাকায় প্লাস্টিকের বস্তা কিনে বালু ভরে স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছেন চরবাসী।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী ভাঙন রোধে প্রতিদিন প্রায় ২/৩ শত চরবাসী প্রত্যক্ষভাবে বাঁধ নির্মাণ কাজে অংশ নিচ্ছেন। তারা কেউ প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরছেন, কেউ নদীর পাড়ে ফেলছেন। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে চরের মানুষের ব্যতিক্রমধর্মী এবং অনুকরণীয় এই উদ্যোগ গ্রহণ করায় চরের সকল শ্রেণির মানুষ তাদের উৎসাহ দিতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত ৪ মাস ধরে ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড এলাহি মেম্বারের বাড়ি থেকে আনন্দবাজারের শেষ মাথা পর্যন্ত থেমে থেমে নদী ভাঙছে। নদীগর্ভে চলে গেছে দুই থেকে তিন কিলোমিটার জায়গা। এতে কমপক্ষে ৭২টির বেশি পরিবার তাদের ঘর অন্য জায়গা সরিয়ে নিতে হয়েছে। অনেকে খোলা জায়গায় বসবাস করছে। কেউ আবার দ্বীপ ছেড়ে ঘরের মালামাল ট্রলারে ভরে চরফ্যাশনের মূল ভূখণ্ডে চলে যাচ্ছে। দ্বীপজেলার এক তৃতীয়াংশ মৎস্য আয়ের উৎস হচ্ছে ঢালচর। নদী ও সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে চলছেন এখানকার ৩০/৪০ হাজার মানুষ। মাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বেকারত্ব দুর করার চেষ্টা চললেও এসব মানুষের স্বপ্ন আশা ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভয়াবহ ভাঙন। ভাঙ্গণের তীব্রতায় আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে ঢালচরের জেলে পল্লীর বাসিন্দারা। এ অবস্থায় ভাঙন কবলিতরা স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডে বার বার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে নিজেদের অর্থ দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন রোধ করে সম্পদ রক্ষার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, তাদের এ চেষ্টার পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামান্য সহযোগিতা পেলে বন্ধ হবে ভাঙন। আর এতেই রক্ষা পাবে ফসিল জমিসহ ঘর-বাড়ি।

উপজেলার চরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মাতাব্বর বলেন, আমাদের এলাকার ভাঙন রোধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আমরা নিজেরাই কাজ করছি। গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্লাস্টিকের বস্তা কিনে বালু ভরে নদীতে ফেলছি। তারপরেও ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের বাবুল মাতাব্বর বলেন, এই এলাকার বঙ্গোপসাগর, মেঘনা, বুড়া গৌরাঙ্গা নদীর ভয়াল ছোবলে গত ২-৩ মাস ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ৩শ’র ওপর বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কয়েকশ হেক্টর ফসলি জমি নদে চলে গেছে। এখানকার দ্বীপজেলার এক তৃতীয়াংশ মৎস্য আয়ের উৎস হচ্ছে ঢালচর। নদী ও সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে চলছেন এখানকার ৩০/৪০ হাজার মানুষ। মাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বেকারত্ব দুর করার চেষ্টা চললেও এসব মানুষের স্বপ্ন আশা ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভয়াবহ ভাঙন। ভয়াবহ ভাঙন রোধে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

১৯ নং ঢাল চর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, যেভাবে ঢাল চর নদীর ভাঙনে পড়ছে,নদী ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে চরটি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদদৌলার বক্তব্য নিতে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হয়েছে, রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি বলেন, ঢালচর একটি নদী ভাঙন কবলিত ইউনিয়ন, সেখানে কোন ভেরি বাঁধ নেই। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি, যেন সেখানে নদী ভাঙন রোধে ভেরি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গত কয়েক মাসে সেখানে ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। উপজেলা সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় কিছু করা যায়নি। তবে দুর্যোগকালীন কোন বরাদ্দ পেলে, ঢাল চরে নদী ভাঙন রোধে ব্যয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন