নোয়াখালী বিএনপির ঘাঁটি। নব্বইয়ের দশক থেকে এই জেলার আসনগুলো জাতীয়তাবাদীদের হাতেই ছিল। মাঝে দেড় দশক জনগণকে নির্বাচনবিমুখ রেখেছিল ফ্যাসিবাদীরা। তাদের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছিল ভোটের রাজনীতি। হাজারো ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে ফিরেছে সেই পরিবেশ। গত বছরের ৫ আগস্টের পর তৈরি হচ্ছে ভোটের আমেজ। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তৎপর বিএনপির হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। মনোনয়নের জন্য তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে। তবে একক প্রার্থী নিয়ে ইতোমধ্যে প্রচার শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী।
জেলার ৯ উপজেলা নিয়ে ছয়টি সংসদীয় আসন গঠিত। এখানে এবার জামায়াতের পাশাপাশি খেলাফত মজলিসও কয়েক জায়গায় একক প্রার্থী দিয়েছে। তবে হাতিয়া ছাড়া কোথাও তৎপরতা নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের। এর চেয়েও বেশি আলোচনায় আছে সম্ভাব্য ইসলামপন্থি জোট। বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতসহ অন্য দলগুলোর নেতারাও সভা-সমাবেশে বারবার বলছেন, তারা এবারের ভোটে একক বাক্স (প্রার্থী) দেবেন। এমনটি হলে আগামী নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন ইসলামপন্থিরা।
নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী)
১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সালে এখানে নির্বাচিত হন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন। এবারও তিনি ধানের শীষের কান্ডারি হতে চান, মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চালাচ্ছেন বিভিন্ন তৎপরতা।
ব্যারিস্টার খোকন বলেন, এক-এগারোর পর বিএনপির দুর্দিনে জিয়া পরিবারের পাশে থেকে দলের জন্য কাজ করেছি। আওয়ামী আমলে দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা-হামলা ও জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আইনি লড়াই করেছি। সক্রিয় ছিলাম বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে। আমার অবদান ও ত্যাগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দল এবারও মনোনয়ন দেবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস আছে।
এ আসনে বিএনপির অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন। তিনি বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
জামায়াত থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি দলের জেলা শাখার মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। জামায়াত তাকে প্রার্থী ঘোষণা দেওয়ার পরই বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন নির্বাচনের মাঠে। নিয়মিত সভা-সমাবেশসহ বিভিন্নভাবে চালাচ্ছেন প্রচার। অবাধ-সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
খেলাফত মজলিস থেকে সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবদুল আজিজ এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে জহিরুল ইসলাম কাউসার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গেছে।
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক)
এই আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ১৯৯১ সাল থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হেভিওয়েট নেতা হিসেবে এবারও তিনি দলের টিকিট চান। তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলাম, কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না আমার। দলের হাইকমান্ডের প্রতি অনুরোধ, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না, দুর্নীতিবাজÑতারা যেন মনোনয়ন না পান। আমার অবদানের কথা বিবেচনায় নিয়ে দল মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব।’
বিএনপির অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনমুখী দল। সাধারণ মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছে। দল মনোনয়ন দিলে আমিও নির্বাচন করব।’
এছাড়া সৌদি আরব দক্ষিণাঞ্চল বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নানও দলের টিকিটপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে আমরা দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।’
জামায়াত এই আসনে জেলা শাখার নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন। আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে মানুষকে দাওয়াত দিচ্ছেন। ভোটারদের মনজয়ে চালাচ্ছেন সর্বোচ্চ চেষ্টা।
খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সদস্য ও সেনবাগ উপজেলা সভাপতি মাওলানা ফয়েজ উল্লাহ হাবিবী এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান দলের প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন।
নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ)
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। এখানে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু। ২০০১ সালে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাসেম বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হেভিওয়েট নেতা হিসেবে এবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী বরকত উল্লাহ বুলু। ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলতে নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন তিনি।
বিএনপি থেকে অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী পারটেক্স গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হাসেমের ছেলে, আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। বিভিন্ন সেমিনার, মতবিনিময়, সভা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ও তার সমর্থকরা নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন।
এই আসনে জামায়াত জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলের টিকিট পেয়েই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ভোটের মাঠে। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক নগরী চৌমুহনীকে যানজটমুক্ত ও খালগুলো দখলমুক্তসহ সব অপরাধ নির্মূল করা হবে। এছাড়া রাস্তা, কালভার্ট-ব্রিজ নির্মাণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করে আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভূমিকা রাখব।’
খেলাফত মজলিস থেকে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোরশেদ আলম মাসুম এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য মাওলানা নূর উদ্দিনকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর)
১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দেশব্যাপী দলটির তৃণমূল পুনর্গঠনের সংগঠক এই হেভিওয়েট নেতা এবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন থেকে এই আসনের রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে শাহজাহানকে কেন্দ্র করে। নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে সরব।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা, মিডিয়া সেল ও দলের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য এবং দেশমাতা ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েমও এই আসনে প্রভাবশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বিএনপির তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মাফিয়াতন্ত্রের কারণে এ অঞ্চলের পক্ষে কেউ কখনো কথা বলেননি। সুযোগ পেলে আপামর জনতার কণ্ঠস্বর হয়ে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখব।’
অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, ‘৪০ বছর ধরে দলের রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড চালাচ্ছি। শাহজাহানের পর এখানে সংসদ সদস্য হওয়ার দাবিদার আমি।’
জামায়াতের জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ ইসহাক খন্দকারকে প্রার্থী ঘোষণার পর এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে । তার মতো উচ্চশিক্ষিত নেতাকে পেয়ে ভোটাররা বেশ আনন্দিত বলে দলের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। দলের টিকিট পাওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও দাওয়াতি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। দলের নেতাকর্মীরাও ভোটের মাঠে আলোড়ন সৃষ্টি করছেন।
এছাড়া খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা রুহুল আমিন চৌধুরী এবং ইসলামী আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা দক্ষিণ শাখার সহসভাপতি ফিরোজ আলমকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট)
এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি সরকারের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। সেই থেকে এটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। এবার তার সহধর্মিণী সাবেক সংসদ সদস্য হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বিএনপির টিকিট প্রত্যাশা করছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি এলাকায় দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও প্রতিভাবান এই সংগঠকের পক্ষে সরব।
ধানের শীষ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ফখরুল ইসলাম। এলাকায় সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন তিনি।
জামায়াত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি এলাকায় আগে থেকেই বেশ পরিচিত। নির্বাচন উপলক্ষে কর্মসূচি ও তৎপরতা বাড়িয়ে দেওয়ায় ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
এছাড়া খেলাফত মজলিস নোয়াখালী জেলা শূরা সদস্য ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আলী আহম্মদ ও ইসলামী আন্দোলন কবিরহাট উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবু নাসেরের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া)
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হিসাব-নিকাশ অন্যরকম। এখানে দল ও প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তির প্রভাবটা ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। ১৯৯৬ সালে তিনি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত হন। তবে ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তার আমলে ঘাট দখল, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাট ছিল না বলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়ান এবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে সমর্থকরা জানিয়েছেন, কোনো কারণে তিনি নির্বাচন করতে না পারলে তার ছেলে প্রকৌশলী ফারহান মোহাম্মদ আজিম মনোনয়ন চাইবেন।
এই আসনে বিএনপির অপর হেভিওয়েট প্রার্থী চাকসুর সাবেক এজিএস, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মাহবুবের রহমান শামীম। বারবার কারা নির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা শামীম গত বছরের অভ্যুত্থানের পর হাতিয়ার রাজনীতিতে নতুন চমক নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। কয়েক মাস ধরে তিনি সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে হাতিয়াবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তানভীরও এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।
জামায়াত এখানে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার শূরা সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও হাতিয়া উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. মাহফুজুল হককে প্রার্থী করেছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ হাতিয়ায় দলের একক প্রার্থী। তিনি কয়েক মাস ধরে এলাকায় উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ, সেমিনার ও গণসংযোগ করছেন। মাসউদ বলেন, হাতিয়ার উন্নয়নে কাজ করছি, মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, আগেও ভোট হয়েছে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছি। কিন্তু তাদের দিয়ে এলাকার উন্নয়ন হয়নি, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। এবার নতুন বাংলাদেশের জনগণ চাঁদাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত, টেন্ডারবাজ ও মাদক কারবারিমুক্ত প্রার্থী চায়। প্রার্থীরা দেশপ্রেমিক না হলে তারা এখানে লুটপাট করবে আর বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়বে। তাই সবাই এবার সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিইউএম কামরুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর জাতি একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। এর জন্য প্রয়োজন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যা আগের প্রশাসন, শেখ হাসিনার নিয়োগ করা পুলিশ ও আমলা দিয়ে সম্ভব নয়। কারণ তারা ইতোমধ্যে তিনটি নির্বাচনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। প্রভাবমুক্ত ও জনপ্রিয় নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব প্রতিষ্ঠান ঢেলে সাজানোর পাশপাশি মৌলিক সংস্কারগুলো নিশ্চিত করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

