আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কক্সবাজারে লাখো পর্যটক সমাগমের আশা, আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন

কোরবানির ঈদে ১০ দিনের টানা ছুটি

আনছার হোসেন, কক্সবাজার

কক্সবাজারে লাখো পর্যটক সমাগমের আশা, আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন

ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটির পর ঈদুল আযহাতেও মিলেছে টানা ১০ দিনের ছুটি। আশা করা হচ্ছে, বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকতে এবারের কোরবানির ঈদেও সমাগম ঘটবে লাখো পর্যটকের। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরাও তেমনটাই আশা করছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) থেকে সারাদেশে ঈদুল আযহার ছুটি শুরু হচ্ছে। এরপর ৬-৭ জুন দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটি। সাপ্তাহিক ছুটির পর ৮, ৯ ও ১০ জুন ঈদুল আযহার বন্ধ। পরের বুধ-বৃহস্পতিবার (১১-১২ জুন) অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল। কিন্তু এরপর শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তাই মাঝের বুধ-বৃহস্পতিবার কোরবানির বিশেষ ছুটিতে ঢুকিয়ে আগের দুই সপ্তাহের দুই শনিবার সরকারি অফিস-আদালত খোলা রাখা হয়। এভাবেই ঈদুল আযহায় টানা ১০ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশ।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুরস অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, প্রতি ঈদের মতো এবারও কক্সবাজারে প্রচুর পর্যটক সমাগমের আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক আবাসিক হোটেল অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ভ্রমণকালে ভোগান্তি এড়িয়ে নিরাপদ অবকাশ যাপনে পছন্দের হোটেল-মোটেল-কটেজে আগাম বুকিং দেন পরিচ্ছন্ন ভ্রমণপিয়াসীরা। ঈদুল আযহাতেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বৃষ্টি নিয়ে শংকায় আছেন।

শহরের অন্যতম তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল বলেন, ঈদুল আযহায় ১০ দিন ছুটি মিললেও কক্সবাজারে পর্যটন জমবে মাত্র পাঁচদিন। তার মতে, আগামী ৫-৬ জুন কোরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত থাকবেন লোকজন। ঈদের দিন তো বাসায় সময় কাটাবেন। ঈদের পরেরদিন মেহমান সামলাতে হবে অনেককে। এজন্য বাইরে বের হওয়া সম্ভব হবে না ভ্রমণপিপাসুদের। মূলতঃ ৯ জুন থেকে বেড়াতে বের হবেন লোকজন। সেভাবেই হোটেল-মোটেল গুলো বুকিং হচ্ছে।

তিনিও আশা করছেন, ৯-১৩ জুন কক্সবাজারে প্রচুর পর্যটক সমাগম ঘটবে। এরইমধ্যে তারকা হোটেলগুলোতে ৫-৮ জুনের জন্য রুম বুকিং নেই বললেই চলে। তবে ৯-১৩ জুনের বুকিং হচ্ছে বেশি। এসময় ৮০-৯০ শতাংশ বুকিং থাকবে হোটেল গুলোতে।

এদিকে টানা ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় সামলানো ও তাদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অতীতে কোরবানির ঈদে ১০ দিন ছুটির নজির নেই। তবে ঈদুল ফিতরে ১১ দিন সরকারি ছুটির শেষ পাঁচদিনে কক্সবাজার সৈকত ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অন্তত ১০-১২ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। সেই চিন্তা থেকেই আশা করা হচ্ছে, ঈদুল আযহার লম্বা ছুটিতেও দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় বাড়বে কক্সবাজারে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) আহবায়ক মিজানুর রহমান মিল্কী জানান, এবারের ঈদে ১২-১৩ জুন জেলা শহরের প্রায় সব হোটেল-মোটেল-রেষ্ট হাউস অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। তবে অন্যদিন গুলোতেও পর্যটকদের আনুপাতিক হারে বুকিং রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি গণমাধ্যমকে বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে।

তিনি জানান, সভায় ঈদের ছুটিতে যানবাহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে হোটেল-মোটেল ও রেষ্টহাউস গুলো যাতে অতিরিক্ত ভাড়া না নেয় এবং রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্যতালিকা টাঙানো হয় সেই নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের অতিথি বরণে হোটেল-মোটেল গুলো গোছানো এবং সবকিছুতেই বাড়তি মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। জেলা সদরের বাইরে হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, মহেশখালী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রামুর স্বপ্নতরীসহ জেলার সব পর্যটন স্পটগুলোকেও ইজারাদাররা গুছিয়ে নিচ্ছেন।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার সাংবাদিকদের জানান, পর্যটক বরণে সবাই প্রস্তুত। পর্যটকদের বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে হোটেল-মোটেল-রেস্তোঁরা মালিকদের চেষ্টার কমতি থাকবে না।

কক্সাবজার শহর ও আশপাশের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-গেস্ট হাউজে দেড়লক্ষাধিক পর্যটক রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ। তিনি জানান, এখন হোটেল কক্ষ ভাড়ায় ৫০-৬০ শতাংশ ছাড় চললেও ঈদের ছুটিতে বেশি ছাড় থাকবে না।

অপরদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে টানা ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে বিপুল পর্যটক সমাগম ঘটবে বলেই আশা করা হচ্ছে। সেই হিসাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, কোরবানির লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মাঠে থাকবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আগের মতোই ঈদুল আযহার লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম বাড়বে। তাদের ভ্রমণ আরামদায়ক করতে নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে সবধরণের পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি আশা করছেন, কোরবানির এই ঈদেও কক্সবাজার মুখর থাকবে পর্যটকদের কোলাহলে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন