জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীতে খুলনায় আলোচনা সভা

খুলনা ব্যুরো

জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীতে খুলনায় আলোচনা সভা
ছবি: আমার দেশ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা।

বিজ্ঞাপন

সভাপতির বক্তব্যে শফিকুল আলম মনা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনী যে কোনো সময় তাদের হত্যা করতে পারত। কিন্তু সেই চরম সংকটময় মুহূর্তেও তিনি পরিবারের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সমগ্র জাতিকে উজ্জীবিত করতে প্রতিরোধযুদ্ধের ডাক দেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ সম্মান। দেশের যে কোনো সংকটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের পর তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদপত্রকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ হলেও তিনি কখনো সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেননি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একজন গৃহবধূ থেকে জাতীয় নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খুলনা মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা মো. আবু নাঈম কাজী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমরেজ, সাবেক মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বেগম রেহানা ঈসা, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ ও চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন।

এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, কে এম আশরাফুল আলম নান্নু, সুলতান মাহামুদ, থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবীর, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী ও কাজী মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, মো. হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, শেখ ইমাম হোসেন, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, আসাদুজ্জামান আসাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শেখ আব্দুল আজিজ সুমন, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রুবেল, জেলা যুবদলের এবাদুল হক রুবায়েদ ও নাদিমুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাজিম বিশ্বাস, সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান খান বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের মো. আবু জাফর ও ইসমাঈল হোসেন খান।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...