আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মাঠে সক্রিয় বিএনপি, দল গোছাচ্ছে জামায়াত

সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় এনসিপি

ইয়াকুব নবী ইমন, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী)

মাঠে সক্রিয় বিএনপি, দল গোছাচ্ছে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই চাঙ্গা হচ্ছে নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসনের নির্বাচনি মাঠের রাজনীতি। এখানে নির্বাচনি মাঠে পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। দল গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াত নেতারা। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে আওয়ামী লীগ, নিষ্ক্রিয় জাতীয় পার্টি।

ঈদ ও বিভিন্ন জাতীয় দিবস কেন্দ্রিক ব্যানার ও পোস্টার সাঁটানোর মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে না পারলে এখানে মূলত ভোট যুদ্ধ হবে বিএনপি ও জামায়াতে প্রার্থীর মধ্যে। এ ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে এনসিপি ও অন্যান্য ইসলামিক দলগুলো।

তাদের সমর্থকরা যে দিকে ঝুঁকবেন ভোটের পাল্লা ভারী হবে সে দিকেই। তবে নোয়াখালী-১ নির্বাচনি আসনটি বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার অনেক মানুষ প্রবাসী ।

নারী ভোটাররাও ভোটের চিত্র পাল্টে দিতে পারেন। আর নারী ভোটারদের পছন্দ ধানের শীষ ও দাঁড়ি পাল্লা।

বিএনপির নির্বাচনি মাঠ মোটামুটি গোছানো রয়েছে। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী হয়েছেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মাহবুব উদ্দিন খোকন ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের বাড়ি সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুরে। দলীয় নেতাকর্মীদের যেকোনো বিপদে মামলা, হামলার সময় পাশে থেকেছেন। এ জন্য দলের তৃণমূল ও হাইকমান্ডে ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়েছি, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি। যেকোনো সময় দলের জন্য কাজ করেছি। আশা করি দল আমাকে আবারও মূল্যায়ন করবে। মনোনয়ন পেলে এই আসন থেকে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।

এ আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন। তিনি ঢাকা ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

মামুনুর রশিদ মামুনের বাড়ি চাটখিল পৌরসভায়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কাজেও জড়িত তিনি।

মামুনুর রশিদ মামুন জানান, এখানকার মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। দল মূল্যায়ন করলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আসনটি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই।

নোয়াখালী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে ইতোমধ্যে মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার পরীক্ষিত একজন নেতা। দলের প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে সভা- সমাবেশ, কর্মী সম্মেলন ও দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন। অব্যাহত রেখেছেন গণসংযোগ।

তিনি বর্তমানে নোয়াখালী জেলা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য, তালিমুল কোরআন ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অশ্লীলতামুক্ত সমাজ গঠন, জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবহেলিত রাস্তাঘাট উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার ও প্রয়োজনে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র সচল করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

নোয়াখালী-১ আসনে খেলাফত মজলিস থেকে হাফেজ মাওলানা আবদুল আজিজকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনিও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দলকে ও দলের আদর্শ উদ্দেশ্যকে জনগণের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি খেলাফত মজলিস সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি।

হাফেজ মাওলানা আবদুল আজিজ জানান, সোনাইমুড়ী-চাটখিলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করব। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই থাকবে আমার লক্ষ্য। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, অনেক দলের শাসন দেখেছে। এখন ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা সময়ের দাবি।

এদিকে নোয়াখালী-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাকের পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো শুধু পোস্টার, ব্যানারে সীমাবদ্ধ। বিগত ১৫-১৬ বছর স্থানীয় রাজনীতিতে দাপিয়ে বেড়ানো আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন।

বিগত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কেন্দ্র দখল করে নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন