আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পাঁচ তরুণের স্বপ্নের রেস্টুরেন্ট

প্রজ্ঞা সর্বজয়া, ইবি

পাঁচ তরুণের স্বপ্নের রেস্টুরেন্ট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তা প্রমাণ করছেন রেস্টুরেন্ট মানেই কেবল ব্যবসা নয়, রেস্টুরেন্টও হতে পারে একটি সামাজিক আন্দোলন, একটি সচেতনতার প্ল্যাটফর্ম, এমনকি একটি টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পও।

আতিফিন সোয়াইব, নাফিস আনাম, মো. ওবায়দুল কাদের, মো. মারুফ হাসান এবং মো. হাম্মাদ সাদি, পাঁচ বিভাগের এই পাঁচ শিক্ষার্থী একত্র হয়ে শুরু করেছেন একটি ভিন্নধর্মী রেস্টুরেন্ট প্রজেক্ট, নাম ‘ক্যাফেইন ক্যাফে অ্যান্ড বিস্ট্রো’ । যা তারা ‘ব্যবসা’ নয় ‘চেঞ্জ-মেকিং ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবেই দেখতে চান।

বিজ্ঞাপন

তাদের মতে, এই উদ্যোগ খাবারের মাধ্যমে শুধু মানুষের পেটই ভরাবে না, বরং পরিবেশ, প্রাণী ও পুরো কমিউনিটির জন্য এক ধরনের দায়বদ্ধতার উদাহরণ গড়ে তুলবে। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, তারা কেউ নিজেদের রেস্টুরেন্ট ওনার হিসেবে ভাবেন না। এটা আসলে একটা প্রজেক্ট। তারা ফুড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে পুরো ফুড সাইকেলকে ঘিরে নতুন নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে চান।

তাদের এই রেস্টুরেন্ট শুধু এক প্লেট খাবারের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হয়নি। বরং এটি একটি গবেষণাভিত্তিক প্রক্রিয়া, যার ভেতরে রয়েছে টেকসই উন্নয়নের মূলনীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা। প্রতিষ্ঠানের লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে আজীবন রাস্তার পশু-পাখির জন্য।

পাশাপাশি তারা কাজ করছেন খাদ্যের অপচয় রোধে। দিন শেষে বেঁচে যাওয়া খাবার ফেলে না দিয়ে কীভাবে তা প্রক্রিয়াজাত করে জৈবসার অথবা বায়োগ্যাসে রূপান্তর করা যায় তা নিয়ে তারা গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছেন। এভাবে একদিকে যেমন খাদ্যবর্জ্য থেকে পরিবেশের ক্ষতি কমানো যাবে, অন্যদিকে তা থেকে তৈরি হচ্ছে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ যা টেকসই শহর ও কমিউনিটি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

রেস্টুরেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা মো. মারুফ হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু উচ্চতর শিক্ষা অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকাটা উচিত নয় বরং শেখা বিষয়গুলোর বাস্তব প্রয়োগেও মনোনিবেশ করা দরকার। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা বাস্তবে প্রয়োগ করা যায়। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেরাই করপোরেট প্র‍্যাকটিস করছি, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, “শুরু থেকেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, স্বপ্নকে বিস্তৃত করতে সাহায্য করেছে। আমরা এখানে যে পাঁচজন তরুণ আছি, তারা শুধু চাকরি প্রত্যাশী নই, বরং ‘চাকরি-সৃষ্টিকারী’ হতে চাই। বাংলার মানুষ ও মাটির জন্য কাজ করতে চাই।”

পাঁচ তরুণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একসঙ্গে কাজ করলে সীমিত সম্পদেও বড় কিছু করা সম্ভব এই বিশ্বাস থেকেই তাদের যাত্রা শুরু, যা এখন অনেকের অনুপ্রেরণার উৎস।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন