আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পোশাকশ্রমিক দিপু হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াছিন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ অফিস

পোশাকশ্রমিক দিপু হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াছিন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ইয়াছিন আরাফাত নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে দিপু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ২১ জনে।

গত বুধবার বিকালে রাজধানীর ডেমরা থানার সারুলিয়া থেকে ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার ইয়াছিন ময়মনসিংহের ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি টানা ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার গেটে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করার পেছনে ইয়াছিন আরাফাতের ভূমিকা ছিল মুখ্য। উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে তিনি দিপু চন্দ্র দাসকে মারধরে নেতৃত্ব দেন। হত্যার পর তার লাশ রশি দিয়ে বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নেওয়া এবং সেখানে লাশে আগুন দেওয়ার ঘটনায়ও ইয়াছিন সরাসরি নেতৃত্ব দেন বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইয়াছিন ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও গত প্রায় ১৮ মাস ধরে তিনি উপজেলার কাশর এলাকার শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। ১৮ ডিসেম্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়ক বিভাজকের একটি গাছে লাশ ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনায় তার ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডটি কারখানার ভেতরের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...