অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে চার শিশু

পূজার আনন্দে বিষাদ: মদ্যপানে দুই যুবকের মৃত্যু

পূজার আনন্দে বিষাদ: মদ্যপানে দুই যুবকের মৃত্যু
নিহত কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ ও মনোতোষ হালদার। ছবি: আমার দেশ

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দের মাঝেই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন দুই যুবক। নিহত উভয়েরই স্ত্রী ও দুটি করে কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে চার শিশুসহ দুটি পরিবার। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ আরও এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন—কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘলীয়া গ্রামের মহেন্দ্র নাথ হালদারের ছেলে মনোতোষ হালদার (৩৮) এবং গেদু বাড়ৈর ছেলে কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ (৩৮)। মনোতোষ পেশায় একজন ইজিবাইকচালক ছিলেন। অপর দিকে, নিহত কৃষ্ণকান্ত ও অসুস্থ অনিল বাড়ৈ রাধাগঞ্জ বাজারে যৌথভাবে ডেকোরেটরের ব্যবসা করতেন। অসুস্থ অনিল একই গ্রামের আদিত্য কুমার বাড়ৈর ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের প্রথমে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে শনিবার ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোতোষ এবং রোববার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষ্ণকান্ত মারা যান।

গ্রাম পুলিশ সদস্য সৌরমান শেখ জানান, পূজা শেষে প্যান্ডেলের মালামাল আনতে মনোতোষের ইজিবাইকে করে কৃষ্ণকান্ত ও অনিল মন্দিরে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বসেই তাঁরা মদজাতীয় কিছু পান করেছিলেন; তবে তাঁরা সুনির্দিষ্ট কী পান করেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি আরও জানান, শনিবার রাতে মনোতোষের এবং রোববার রাতে কৃষ্ণকান্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষ্ণকান্তের ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ জানান, পূজার ডেকোরেটরের কাজ করতে গিয়েই তাঁর ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

এদিকে মনোতোষের ভাই উত্তম হালদার জানান, তাঁর ভাই কোনো এক ধরনের তরল পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সোমবার দুপুরে উপজেলার দিঘলীয়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রিয়জনকে হারিয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্বজনদের।

কোটালীপাড়া থানার ডিউটি অফিসার পুতুল সেন জানান, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোটালীপাড়া থানার ওসি রিয়াদ হোসেন বলেছেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন