চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ ভাঙচুর, নাম পরিবর্তন ও উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতারা।
সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করে তাঁরা এই দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তাদের দোসররা জিয়া স্মৃতি জাদুঘর উচ্ছেদের গভীর পরিকল্পনা করেছিল। বিশেষ করে পলাতক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পরিকল্পনায় তারা এই স্মৃতি জাদুঘর উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এত কিছুর পরও তারা এখনো বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা আস্ফালন দেখাচ্ছে। এদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সোমবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সিএমপি কমিশনারের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন ছাত্রদল নেতা ও 'আমরা জুলাই যোদ্ধা' চট্টগ্রামের প্রতিনিধিরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও 'আমরা জুলাই যোদ্ধা' চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক সাগর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রিদোয়ানুল ইসলাম, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি কাইমুল ইসলাম, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য আবিদুল ইসলাম, আসিফুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, আলিফ এবং ইমামুর রহমান ইমন প্রমুখ।
স্মরকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত আওয়ামী সরকারের শাসনামলে প্রশাসন ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কতিপয় পদলোভী ব্যক্তি রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ ভাঙচুর এবং এর নাম পরিবর্তনের চেষ্টা চালায়। একটি সংবাদপত্রের পুরোনো প্রতিবেদনে দেখা যায়, তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের কাছে একদল চিহ্নিত ব্যক্তি, নামধারী লেখক-সাংবাদিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বর্জন’-এর দাবি সংবলিত একটি স্মরকলিপি প্রদান করেছিলেন।
স্মারকলিপিতে সেসময় দেশবিরোধী ও ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টায় সরাসরি লিপ্ত এবং স্মরকলিপি প্রদানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন—চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনুছ, কথিত সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, শুকলাল দাশ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার/সাধারণ সম্পাদক আলম বাবু, বাচিক শিল্পী পরিচয়দানকারী মিলি চৌধুরী, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এ এফ এম মোজাম্মেল আলী, সাংবাদিক কমল দাশ, মুজাহিদুল ইসলাম এবং আমিনুল হক বাবু।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতারা স্মারকলিপিতে ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা অবমাননার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত উল্লেখিত সকল ব্যক্তিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করতে হবে।
২. জাদুঘরের ভেতর থেকে সংরক্ষিত সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া বা এর স্বকীয়তা নষ্ট করার পেছনে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা বা ব্যক্তি নেপথ্যে মদদ দিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৩. ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’-এর স্বকীয়তা ও মর্যাদা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখে এর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণের আবেগ ও জাতীয় ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়নের স্বার্থে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও 'আমরা জুলাই যোদ্ধা' চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক সাগর বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা জিয়া স্মৃতি জাদুঘর উচ্ছেদের চেষ্টা করেছিল, তারা এখন নানা ছদ্মবেশে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। এখনো তারা প্রকাশ্যে নানা আস্ফালন দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করার পরও তারা বিভিন্ন পদে বহাল রয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ বজায় রেখে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-a9de97-720x405.webp)