কনস্টেবলের মতোও মনে হয় না, সে-ই থানার ওসি: যুবদলনেতা

কনস্টেবলের মতোও মনে হয় না, সে-ই থানার ওসি: যুবদলনেতা
উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়সংলগ্ন মাঠে পৌর বিএনপির আওতাধীন ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে আব্দুল কাইয়ুম।

কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম। তিনি টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলামের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে ওসিকে নিয়ে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘একটা কনস্টেবলের মতোও মনে হয় না, সে-ই থানার ওসি!’

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়সংলগ্ন মাঠে পৌর বিএনপির আওতাধীন ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর একান্ত সহকারী (পিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্মেলনে আব্দুল কাইয়ুম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমান প্রশাসন দিয়ে টেকনাফে অপহরণ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। এ জন্য তিনি সৎ, সাহসী ও কার্যকর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, টেকনাফে এমন একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা প্রয়োজন, যিনি কার্যকরভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে টেকনাফে শান্তি-শৃঙ্খলা পুরোপুরি ফিরবে কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

যুবদলের এই নেতা বলেন, সরকার নতুন আইন করেছে। সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক কারবারি ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। টেকনাফকে মাদক ও অপহরণমুক্ত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

অপহরণের ঘটনা ঘটার পরও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জাতীয় নির্বাচনের আগে টেকনাফে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অন্যথায় অপহরণ বন্ধ করা কঠিন হবে।

সম্মেলন ও কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন টেকনাফ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান বক্তা ছিলেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ এনামুল হাসান। এ সময় যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসির প্রতিক্রিয়া

যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুমের বক্তব্য প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, তার সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এ বিষয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়াও নেই। তিনি কেন এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন।

তিনি বলেন, আমি যতদিন টেকনাফে দায়িত্বে থাকব, ততদিন এখানকার মানুষের সেবায় কাজ করে যাব। আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছি।

কাইয়ুমের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কোনো ধরনের কথাও হয়নি বলে দাবি করেন সাইফুল ইসলাম।

যুবদল নেতার বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন, টেকনাফ-উখিয়ার প্রতিনিধি রুবাইয়াত হোসেন। তিনি বলেন, থানা পুলিশকে নিরুৎসাহিত করা হলে টেকনাফের বাস্তব পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে থানা পুলিশের কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, নতুন পুলিশ চৌকি স্থাপন এবং সামগ্রিক পুলিশিং ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানান তিনি।

এসব দাবির পক্ষে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান রুবাইয়াত হোসেন।

এদিকে টেকনাফ পৌর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম ফেসবুক মন্তব্যে লিখেছেন, অবৈধ তদবির, মামলা বাণিজ্য ও অবৈধ আবদারে যখন কাজ হয় না তখন ওসি খারাপ হয়ে যায়!

অন্যদিকে ‘নিউজ অব টেকনাফ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, টেকনাফে যেসব বিএনপি নেতা গলা ফাটিয়ে ইয়াবার বিরুদ্ধে কথা বলতেছে, মূলত তারাই এই ইয়াবা ব্যবসায়ীর আশ্রয়দাতা ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের সেইভ জোনে রাখার হর্তাকর্তা।

তবে ফেসবুকে করা এসব মন্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।

বক্তব্যের শেষদিকে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আব্দুল কাইয়ুম। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন