ঈদগাঁওয়ে এক রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি, দেড় কোটি টাকার মালামাল লুটের দাবি

ঈদগাঁওয়ে এক রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি, দেড় কোটি টাকার মালামাল লুটের দাবি

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় একই রাতে পৃথক দুটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সশস্ত্র ডাকাতরা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এ সময় ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ইসলামাবাদ ও পোকখালী ইউনিয়নে এ দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ডাকাতির শিকার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য টেকপাড়ার বাসিন্দা নুরুচ্ছফা জানান, তিনি চিংড়ি ঘেরের কাজে রাতে ঘরে ছিলেন না। বাড়িতে পরিবারের মহিলা সদস্য ও দাওয়াতে আসা মহিলা সদস্যরা ছাড়া কোন পুরুষ সদস্য ছিলনা। এ সুযোগে রাত ৩টার দিকে সশস্ত্র ডাকাতদল গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তার স্ত্রী আমেনা (৫০) ও এক শিশু নাতিকে ব্যাপক মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে নগদ ২১ লক্ষ টাকা, রক্ষিত ও মহিলাদের পরনে থাকা ৫০ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৪ টি এন্ড্রয়েড মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায়। লুটকালে ডাকাতদল ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। মোটরসাইকেল যোগে হানা দেয়া ডাকাতদল মুহূর্তেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানান।

তিনি আরো জানান তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ভোরে ওসির নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

একই রাতে পৃথক অপর ডাকাতির ঘটনায় একই কায়দায় কাছাকাছি সময়ে সশস্ত্র ডাকাতদল পোকখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড পশ্চিম পোকখালীর মো. হোছন (প্রকাশ দাড়ি মাছন) এর ঘরের গ্রিল কেটে তার পুত্র নুর মোহাম্মদ এর স্ত্রীর ১৬ ভরি স্বর্ণ,নগদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও দামি ৩টি এন্ড্রয়েড মোবাইল আর ৮০ লক্ষ টাকার একটি চেকসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ডাকাতদলও মোটরসাইকেল যোগে ডাকাতি সংঘটিত করে চলে যায় বলে জানান মো. হোছন। এছাড়া ডাকাতরা ঘরের মূল্যবান অনেক জিনিসপত্রও ভাঙচুর করে জানান।

পরে সংবাদ পেয়ে সকালে ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জানান।

ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, তিনি পৃথক ডাকাতির ঘটনার সংবাদ পেয়ে ভোরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করে সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে সনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান।

প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ) দিবাগত রাত থেকে গত বুধবার (২৯ জুলাই ) দিবাগত রাত পর্যন্ত উপজেলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।যার মধ্যে গত মঙ্গলবার ও বুধবার চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি ডাকাতির ঘটনা ঘটল।তার মধ্যে তিনটি বসতঘরে ডাকাতির চিত্র ছিল একই রকম। লোহার গ্রিল কেটে ও মোটরসাইকেল যোগে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে এত রাতে ডাকাতদল কিভাবে সড়ক পথে নিরাপদে স্থান ত্যাগ করে তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলছেন ডাকাত আতঙ্কে থাকা উপজেলার জনগণ। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলেও বর্তমান প্রশাসন কোন ভাবেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছেনা। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন