চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দীর্ঘ সময় চলার পর ট্রমা সেন্টারটি ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে রোগীরা পড়েছেন বিপাকে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালে নির্মাণ করা হয় লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার। কিন্তু উদ্বোধনের পর সেন্টারটি চালুর জন্য চিকিৎসা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সহকারী সার্জন, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ ২৭টি পদের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এসব পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বরাদ্দ না পাওয়ায় ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের (সিআইএমসি) যৌথ উদ্যোগে ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারটি চালু হয় এবং সিআইএমসির পক্ষ থেকে ৬ চিকিৎসক, ১৫ নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী দেওয়া হয়। চলতি বছরের ৩১ জুলাই সরকারের সঙ্গে সিআইএমসির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে সরকারের সঙ্গে সিআইএমসির চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় ২০০৭ সালের জুনে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ট্রমা সেন্টার ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। ট্রমা সেন্টার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৬০-৭০ জন রোগীকে চিকিৎসা ও ছোট অপারেশন করা হয় এ ট্রমা সেন্টারে। ২০২৫ সালে ৫ হাজার ৫৬৪ এবং ২০২৬ সালে প্রায় ৬ হাজার ১১৩ রোগী এ ট্রমা সেন্টার থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।
তাছাড়া পদুয়া ইউনিয়নের জানে আলম বলেন, নির্মাণের পর দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর বন্ধ থাকার পর ট্রমা সেন্টারটি চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। ফলে মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেত। কিন্তু এ সেন্টারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাই জনসাধারণের সুবিধার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রমা সেন্টারটি চালুর ব্যবস্থা করবে সরকার—এমনটাই প্রত্যাশা দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাত উপজেলার জনসাধারণের।
ট্রমা সেন্টারে কর্মরত এইচ আর শহীদ জানান, ট্রমা সেন্টারটি চালু হওয়ার পর থেকে নানা দুর্ঘটনায় আহত প্রায় ১০ হাজারের অধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সরকারের সঙ্গে সিআইএমসির চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ট্রমা সেন্টার পরিদর্শনে এলে এটি চালু রাখতে সব ধরনের প্রচেষ্টা রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু চিকিৎসক, কর্মচারীদের বেতন, ওষুধপত্রসহ যাবতীয় খরচের সহযোগিতার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় কর্মরত সবাই হতাশ হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্যের আশ্বাসে ট্রমা সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগস্ট মাসে বিনা বেতনে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রেখেছিলেন। কিন্তু আশ্বাসের বাস্তবায়নে কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া না যাওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল ইফরান বলেন, ট্রমা সেন্টারটি আবার চালু রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়গুলো বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

