শিবালয়ের আবাসিক ও আরিচা বন্দর এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। ময়লা ফেলার কোনো ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় রাস্তার পাশে ও নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ময়লার ভাগাড়। এতে আবাসিক এলাকার লোকজন ডেঙ্গু, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ময়লার দুর্গন্ধে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। শিবালয়ের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আরিচা নদী বন্দর অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে তিন হাজার পরিবারের প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস।
জানা গেছে, আরিচা নদী বন্দর এলাকায় অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও আরিচা বন্দর এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেনি। ফলে আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে, পোস্ট অফিস রোডের মোড়ে আজাদের বাড়ির সামনে এবং বন্দর বাজারের পশ্চিম পাশে যমুনা নদীর তীরে বাজারঘেঁষে, ভূমি অফিসের সামনের এলাকা হয়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। এসব জায়গায় প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন বাসাবাড়ি, হোটেল ও দোকান পাটের নানা ধরনের বর্জ্য। এছাড়া রাতের অন্ধকারে শিবালয় নতুন পাড়া ড্রেনের রাস্তার ওপর যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা। বিশেষ করে শিবালয় নতুন পাড়ায় যেখানে ময়লা ফেলা হয় তার পাশেই রয়েছে মানুষের যাতায়াতের রাস্তা, একটি স্কুল ও একাধিক বাসাবাড়ি। ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত ও বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেখা যায়, আরিচা বন্দরের পোস্ট অফিস রোড। এই রাস্তার পাশেই পচনশীল ও অপচনশীল নানা ধরনের বর্জ্য ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। বাজারের পশ্চিমে বাজারঘেঁষে যমুনা নদীর তীর ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মাংস ব্যবসায়ী ও কসাইয়ের গরু জবাইয়ের বর্জ্য, বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের বর্জ্য এবং বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নদীর পাড়ে নিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে ময়লার দুর্গন্ধে এই পথে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আরিচা বন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, পুরো বাজারের পচা ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়ে রোগ-জীবাণুর সৃষ্টি হচ্ছে।
আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, এখানে দুইটি সরকারি উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকাতে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ অসংখ্য মানুষ স্কুলের পাশে গড়ে ওঠা ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে অনেক বিড়ম্বনা নিয়ে চলাচল করছে। মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশরাফ হোসেন বলেন, ময়লার দূষিত দুর্গন্ধে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, হাঁপানি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। এসব থেকে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই ব্যাপারে ৩ নম্বর শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আলাল উদ্দিন আলাল বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদেরও সক্ষমতা নেই যে, ময়লা ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন বানিয়ে দিবে। তবে তিনি জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

