কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ
রোববার এ সিদ্ধান্ত জানালেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে যাচাইবাছাইয়ের সময় ব্যারিস্টার সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়।
পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেই হিসেবে রোববার বিকেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার সালেহী।
কিন্তু জমা দেওয়া কাগজপত্র না দেখেই জেলা প্রশাসক তার মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা দিয়ে তড়িঘড়ি করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
এ সময় সভাকক্ষে উপস্থিত প্রার্থী ও তার সমর্থকরা কাগজপত্র যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে সভাকক্ষে হট্টগোল তৈরি হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রায় দুই থেকে আড়াইশ জামায়াত নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার সালেহী সাংবাদিকদের বলেন, রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক আমাকে কাগজপত্র নিয়ে ডেকেছিলেন। কিন্তু সেগুলো উপস্থাপনের যথাযথ সুযোগ না দিয়েই মনগড়াভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন তিনি। এটি চাপ প্রয়োগ কিংবা কোনো বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ বলেই মনে হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এডভোকেট খাজা ময়েন উদ্দিন বলেন, কুড়িগ্রাম ৩ আসনে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহী। প্রথম দিন যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। আজ তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল কিন্তু জেলা প্রশাসক তার কাগজপাতি যাচাই বাছাই না করেই মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা আশংকা করছি তিনি ইস্কনের সদস্য। যখন সে কুড়িগ্রামে যোগদান করে তখনই আমাদের ধারনা ছিল তার ব্যাকগ্রাউন্ড ছাত্রলীগের। মনে করেছিলাম হাসিনা পালানোর পর সে ভালো হবে কিন্তু হয় নাই। উনি আজকে তার চরিত্র প্রকাশ করলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, ডিসি অফিসে কুড়িগ্রাম-৩ আসনেরজামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের কথা ছিলো কিন্তু জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ কাগজপাতি না দেখেই সালেহীর মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়ে চলে যান।
এতে উপস্থিত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানান এবং তাদের চাওয়া, যে কাগজ গুলো আনা হয়েছে সেগুলো যেনো যাচাই করা হয় কিন্তু জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই করেননি। এ বিষয় নিয়ে বাইরে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।পরে সেটা শান্ত হয়ে যায়।
তবে জেলা রিটার্নিং অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, দাখিল করা মনোনয়নপত্রে অসংগতি থাকায় সেটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রার্থী চাইলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

