ফেনীতে আওয়ামী ফ্যসিস্টদের ক্ষমতার দ্বন্ধে দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যার ১ যুগ আজ। ২০১৪ সালের ২০ মে শহরের বিলাসী সিনেমা হলের সামনে তাকে সরকারি গাড়ির গতিরোধের পর নিজ দলের নেতাকর্মীরা হত্যা করে। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ এ মামলায় ৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলার এখনও পালাতক ফাঁসির ১৭ আসামি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩৯ আসামির মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৭ জনের মধ্যে ৮ জন জামিনে গিয়ে পলাতক ও বাকি ৯ আসামি ঘটনার শুরু থেকেই পালতক ও এখনো অধরা থেকে যায়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামি খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। তারা হলেন, জেলা আ.লীগের তৎকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, একই দলের সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী সিফাত, আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. আজমির হোসেন রায়হান, মো. শাহজালাল উদ্দিন শিপন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে আজাদ, কাজী শানান মাহমুদ, মীর হোসেন আরিফ ওরফে নাতি আরিফ, আরিফ ওরফে পাঙ্কু আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, মো. সোহান চৌধুরী, জসিম উদ্দিন নয়ন, নিজাম উদ্দিন আবু, আবদুল কাইউম, নুর উদ্দিন মিয়া, তোতা মানিক, মো. সজিব, মামুন, রুবেল, হুমায়ুন ও টিপু।
অপরদিকে গ্রেপ্তারের পর জামিনে গিয়ে পলাতক ৮ আসামি হলেন, ফুলগাজী উপজেলা আ.লীগের তৎকালীন যুগ্ম-সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, জেলা মহিলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন বড় মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম, আ.লীগের এমরান হোসেন রাসেল, জাহিদুল হাসেম সৈকত, চৌধুরী মোহাম্মদ নাফিজ উদ্দিন অনিক, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, আরমান হোসেন কাউসার ও জসিম উদ্দিন।
মামলার পর থেকে পুলিশি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ৯ জন আসামি। তারা হলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, রাহাত মোহাম্মদ এরফান আজাদ, শফিকুর রহমান, একরাম হোসেন, মোসলেহ উদ্দিন আসিফ, মহিউদ্দিন আনিছ, টিটু ও বাবলু।
এ মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ১৬ জন। তারা হলেন, বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনার, ফেনী পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার, আ.লীগ নেতা বেলাল হোসেন পাটোয়ারী ওরফে টুপি বেলাল, মো. আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিন, আবদুর রহমান রউপ, সাইদুল করিম পবন ওরফে পাপন, জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন, মো. শাখাওয়াত হোসেন, শরিফুল ইসলাম পিয়াস, কালা মিয়া, নুরুল আবসার রিপন, মো. ইউনুস ভূঁইয়া শামীম ওরফে টপ শামীম, মো. মাসুদ, কাদের ও ফারুক।
এ বিষয়ে নিহত ওই আ.লীগ নেতা একরামের ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই সরকার দ্রুত এ রায় কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। উচ্চ আদালতেও নিম্ন আদালতের রায়ের প্রতিফলন ঘটবে। এ রায় কার্যকরে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
এ মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ওসি মো. সামসুজ্জামান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি চেষ্টা অব্যাহত আছে। ২০২১ সালে সর্বশেষ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবমিলিয়ে ২২ জন কারাগারে ছিলেন। পরে একজন সেখানেই মারা গেছেন।
এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া আসামিদের সাজা নিশ্চিতে হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর শুনানি ও ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির সময় গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী বলেন, আপিলটি বর্তমানে শুনানির জন্য কার্যতালিকায়। আসাসিপক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করছি শিগগির এর শুনানি হবে।
এডি/জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

