সাবেক এমপি বাহার ও সুচনাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সাবেক এমপি বাহার ও সুচনাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কুমিল্লা নগরীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদকে হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা সদর আসনের সাবেক এমপি আ ক ম বাহা উদ্দিন বাহার, তার মেয়ে ও সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাসহ মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম দৈনিক আমার দেশকে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এটি কুমিল্লায় জুলাই আন্দোলনে দায়ের করা ১২টি হত্যা মামলাসহ মোট ৪২টি মামলার মধ্যে প্রথম অভিযোগপত্র। এই মামলায় ইমাম হোসেন বাচ্চু নামে এক আসামি কারাগারে থাকাবস্থায় মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিহত অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কুমিল্লা শাখার যুগ্ম সম্পাদক এবং কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন।

তিনি নগরীর রানীর দিঘীর দক্ষিণ পাড় এলাকায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে।

গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিজয় মিছিলের পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। ওইদিন বিকেলে কুমিল্লার আদালতে হামলার খবর পেয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে যান। ফেরার পথে নগরীর মোগলটুলী এলাকায় তাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে আবুল কালাম আজাদ গুলিবিদ্ধ হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ১০ দিন পর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আবুল কালামের সহকারী আইনজীবী মোস্তফা জামান জসিম বাদী হয়ে সাবেক কাউন্সিলর রায়হান ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইমাম হোসেন ওরফে বাচ্চুসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ‘নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ রায়হানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল ছোড়ে। এ সময় অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ কোমরে গুলিবিদ্ধ হন এবং রিংকু ও তার দুই ছেলেসহ আরও ৬-৭ জন আইনজীবী আহত হন।’

কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, “গত ৫ আগস্ট আমার সামনেই আমার সহকর্মী আবুল কালাম আজাদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় আমরাও আহত হই। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, মামলার বাদী এজাহারে প্রথমে ৫ জনের নাম উল্লেখ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তদন্তে সাবেক এমপি বাহার, তার মেয়ে ডা. সূচনা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকনের ইন্ধন ও পরিকল্পনায় গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সাক্ষী-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলায় ইমাম হোসেন বাচ্চু নামে একজন মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন