মহাসড়কের পাশে পলিথিনে মোড়ানো গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার

মহাসড়কের পাশে পলিথিনে মোড়ানো গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার

বরিশাল-ভোলা সড়কের পাশে পলিথিনে মোড়ানো মারিয়া আক্তার ২৩ নামের এক গৃহবধূকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার ভোরে মেট্রোপলিটন বন্দর থানার তালুকদারহাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর অবস্থায় ওই নারীকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ রয়েছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে সতিনের ভাইসহ তার দলবল এমনটা করেছে বলে ওই নারীর অভিযোগ। তবে বিষয়টি অনেকটা রহস্যজনক বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি ওই নারী জানান, তার স্বামী মশিউর রহমানের বাড়ি উজিরপুর উপজেলার সাকরাল গ্রামে। ব্যবসায়িক কারণে তার স্বামী ভোলায় বসবাস করেন। তার সাথে কথা বলেই শনিবার বিকেলে তিনি লাহারহাট ফেরিঘাটে যান। ওখানে সন্ধ্যা ৭টায় ভোলার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু লঞ্চ না পেয়ে তিনি বরিশালে ফিরে আসার জন্য রওয়ানা হলে সাড়ে ৯টার দিকে তিনি চরকাউয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছান। এখানে আসা মাত্রই তার সতিনের ভাই বনি আমিনের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য ওষুধ খেতে বলে। কিন্তু ওষুধ খেতে অস্বীকার করলে জোর করে তারা তাকে ওষুধ খাইয়ে দেন। এক পর্যায়ে তারা হাত পা বেঁধে মুখে স্কস্টেপ দিয়ে আটকিয়ে দেন। পরে তার দু’হাতে ও পায়ে দাহ্য জাতীয় পদার্থ ঢেলে দিয়ে পলিথিনে পুরো শরীর মুড়িয়ে রেখে রাস্তার পাশের জমির মধ্যে ফেলে রাখে।

তবে ওই গৃহবধূর দেয়া তথ্য রহস্যজনক বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য।

এ বিষয়ে বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন বলেন, তালুকদারহাট এলাকার ব্যবসায়ীরা ভোরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় সড়কের পাশে পলিথিনে পেঁচানো অবস্থায় ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ওই এলাকায় পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন