আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তজুমদ্দিনের হাজারো জেলে

এরশাদ সোহেল, তজুমদ্দিন (ভোলা)

ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তজুমদ্দিনের হাজারো জেলে

মেঘনায় দুই মাসের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় দুর্বিষহ দিন কাটছে তজুমদ্দিনের হাজারো জেলের। ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন জেলেরা।

জানা গেছে, জেলেদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। নীরবে তাকিয়ে আছেন খরস্রোতা মেঘনার উত্তাল জলরাশির দিকে; যাদের ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাদের ঘরে ঈদের আনন্দ যেন অবাস্তব কল্পনামাত্র। একদিকে মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দেনা পরিশোধের চাপ; অন্যদিকে ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের পথ বন্ধ। আর তাই দুশ্চিন্তায় ভোলার তজুমদ্দিনের ১৯ হাজার ৯২৭ জেলে। মেঘনায় ইলিশ মাছ শিকার, পরিবহন, মজুত নিষিদ্ধ হওয়ায় ঈদের আগেই দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন জেলেপাড়ার মানুষ। ফলে এবার মেঘনাপাড়ের জেলেপল্লিতে নেই ঈদের আনন্দ। কেউ কেউ অলস সময় পার করছেন, কেউ আবার জাল মেরামত করছেন, কোথাও নদীর ঘাটে সারি সারি নৌকা নোঙর করা। ইলিশ রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর এমনই দৃশ্য দেখা যায় তজুমদ্দিনের মেঘনা নদীর তীরজুড়ে।

বিজ্ঞাপন

তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য অফিসের নিষেধাজ্ঞায় তজুমদ্দিনের ১৯ হাজার ৯২৭ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে।

মেঘনা নদীর হাকিম উদ্দিন থেকে মঙ্গল শিকদার এলাকা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে তজুমদ্দিন মৎস্য অফিস। সরেজমিনে দেখা যায়, তজুমদ্দিনের স্লুইসগেট ঘাট ও চৌমুহনী ঘাট এলাকায় বেশিরভাগ নৌকা তীরে তুলে রাখা হয়েছে। জেলেরা জাল শুকাচ্ছেন, কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত জাল মেরামত করছেন।

স্লুইসগেট ঘাট এলাকার জসিম মাঝি জানান, নদীতে মাছ কম পেয়েছি এ বছর। দাদনদারদের থেকে নেওয়া আগের দেনা শোধ করতে পারিনি। এখন আবার দুই মাস কাজ বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। একই এলাকার গুরিন্দা এলাকার খোকন মাঝি জানান, রমজান চলছে, সামনে ঈদ আবার এনজিওর কিস্তির চাপ। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাল দেওয়া হয়Ñ এমন প্রশ্নে জেলেরা জানান, সরকার চাল দেয় ঠিক আছে, শুধু চাল দিয়ে তো আর সংসার চলে না। নিষেধাজ্ঞা মানেই আমরা বেকার হয়ে পড়েছি। তারা এ নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই চাল দেওয়ার দাবি জানান।

তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন জানান, অভিযান সফল করতে ইতোমধ্যে প্রচার চালানো হয়েছে। বরাদ্দ করা চাল বিতরণ চলমান। এছাড়া ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলেদের অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে কখন এই খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তার কোনো সদুত্তর নেই মৎস্য কর্মকর্তার কাছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন